কনটেইনারপ্রতি খরচ বেড়েছে ২২৮০০ টাকা!

চট্টগ্রাম বন্দরে বাড়তি মাশুল

চট্টগ্রাম বন্দরে আসা ২০ ফুট এককের একটি কনটেইনার জাহাজ থেকে নামিয়ে ঢাকার কোনো কারখানা হয়ে প্রাইম মুভারে করে ডিপোতে নিতে আগে খরচ হতো গড়ে ৬০ হাজার টাকা। এখন একই প্রক্রিয়ায় সেই কনটেইনার পরিবহনে খরচ পড়ছে প্রায় ৮৩ হাজার টাকা।

চট্টগ্রাম বন্দরে ২০ ফুট এককের একটি কনটেইনারে আগে গড়ে মাশুল আদায় হতো ১১ হাজার ৮৫০ টাকা। তবে গত ১৫ অক্টোবর থেকে নতুন মাশুল কার্যকর হওয়ায় এখন প্রতি কনটেইনারে বাড়তি দিতে হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ টাকা। একইভাবে কারখানা থেকে ডিপো পর্যন্ত পরিবহনে খরচ বেড়েছে আরও ৮ হাজার ৪০০ টাকা। ডিপো থেকে জাহাজে তোলার সময় শিপিং মালিকরা নিচ্ছেন বাড়তি অন্তত ৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে পরিবহন মালিকরাও প্রতিটি কনটেইনারে নতুন করে ৫ হাজার টাকা ভাড়া বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। সব মিলিয়ে চারটি ধাপে ২০ ফুট এককের একটি কনটেইনারে অতিরিক্ত খরচ পড়ছে প্রায় ২২ হাজার ৮০০ টাকা। আগে যেখানে এক কনটেইনারে খরচ হতো গড়ে ৬০ হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৮২ হাজার ৮০০ টাকায়। এ অবস্থায় পোর্ট ইউজার্স ফোরাম নতুন মাশুল বাতিলের দাবি জানিয়ে গত শনিবার সরকারকে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম দেয়। সময়সীমা শেষ হচ্ছে আজ শুক্রবার; এর মধ্যে সমাধান না পেলে বন্দর অচল করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তারা।

পোর্ট ইউজার্স ফোরামের আহ্বায়ক ও চিটাগং চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বন্দর, ডিপো, শিপিং মালিক, পরিবহন মালিক– সবাই একে অপরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাড়তি খরচ পোষাতে সবাই যদি মাশুল বা ফি বাড়ায়, তাহলে কোথায় যাবেন ব্যবসায়ীরা।

এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক ও সিকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক বলেন, বন্দরকে মাশুল বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে। আলোচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নইলে বন্দর অচল করে দেবেন ব্যবহারকারীরা।

খরচ বাড়ার উদাহরণ টেনে শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ জানান, তাদের ‘এমভি ভেসপার’ নামে একটি খোলা পণ্যের জাহাজ ৩০ হাজার টন কয়লা নিয়ে বন্দরে নোঙর করবে আগামী রোববার। আগের ট্রিপে এই জাহাজ বন্দরে এসে ২১ হাজার ডলার খরচ বহন করেছে। তবে এবারের ট্রিপে তাদের খরচ হচ্ছে ৪১ হাজার ডলার। এ হিসাবে খোলা পণ্যের জাহাজে শুধু বন্দরেই তাদের খরচ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

This will close in 5 seconds