কক্সবাজারে ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ধসে ৯ জনের মৃত্যু

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ভয়াবহ পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার দিবাগত রাত একটার পর থেকে তিনটার মধ্যে বালুখালী, কুতুপালং ও জামশিয়া আশ্রয়শিবিরের চারটি পৃথক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে আশ্রয়শিবিরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ফায়ার সার্ভিস ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছেন।

পাহাড়ধসে নয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা। তিনি জানান, টানা ভারী বৃষ্টির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় আরও পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। আশ্রয়শিবিরের অনেক রোহিঙ্গা পাহাড়ের ঢালু এলাকায় বসবাস করায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এদিকে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে, যা আরও অন্তত দুই দিন ভারী থেকে অতি ভারী আকারে অব্যাহত থাকতে পারে।

রোহিঙ্গা নেতা আকতার কামাল জানান, রাত দেড়টার দিকে জামতলী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১৫) ডি-৬ ব্লকে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে, যেখানে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে রোহিঙ্গা নাগরিক কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর চাপা পড়ে। এতে ঘুমন্ত অবস্থায় কামাল হোসাইন (৪৪), তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) ও চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন। পরে গভীর রাতে ফায়ার সার্ভিস ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীরা মাটি সরিয়ে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে। একই ঘটনায় ওই পরিবারের আরও দুজন আহত হন এবং তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে রাত দুইটার দিকে কুতুপালং আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-৭) ডি-৭ ব্লকেও পৃথক পাহাড়ধসে মো. একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়; সে ওই আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা রশিদ উল্লাহর ছেলে।

কক্সবাজারের উখিয়ার আশ্রয়শিবির

রাত সাড়ে তিনটার দিকে বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-১১) সি-১১ ব্লকে পৃথক পাহাড়ধসে একটি পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তাঁর বোন তানজিনা আক্তার (১৩) এবং দুই ভাই হারুনুর রশিদ (৩) ও মোহাম্মদ রিহান (৫)। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, পাহাড়ধসের খবর পেয়ে তাঁদের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় ভোর পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মোট আটজনের মরদেহ উদ্ধার করে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে উখিয়া ও টেকনাফে প্রায় আট হাজার একর বনভূমি উজাড় করে ৩৪টি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে ৩৩টি শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ, যার মধ্যে অন্তত ৮০ হাজার মানুষ ভূমিধসের ঝুঁকিতে বসবাস করছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এসব আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।