ভোজ্যতেল মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরিসহ সিন্ডিকেট বাণিজ্যের অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডকে। প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ৪৩ কোটি টাকার জরিমানার আদেশ দিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কমিশনের এক শুনানিতে প্রশাসনিক আর্থিক জরিমানার এ আদেশ দেয়।
প্রতিযোগিতা কমিশন সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডের বিরুদ্ধে পণ্য মুজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার অভিযোগে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন মামলা করেছিল। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভোজ্যতেল মুজুদ করে মার্কেটে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার অভিযোগ এসেছিল প্রতিযোগিতা কমিশনের কাছে। সেই অভিযোগ অনুসন্ধানে সতত্য পেলে কমিশন মামলা করে। সেই মামলা তদন্ত হয়ে শুনানি শেষে মঙ্গলবার রায় দিয়েছে। প্রতিযোগিতা আইন ২০১২ এর ধারা ২০ মোতাবেক উক্ত মামলার রায় দেওয়া হয়।
প্রতিযোগিতা কমিশনের সচিব (উপসচিব) মাহবুবুর রহমান খান বলেন, ‘এটা অনেক পুরনো একটি মামলা ছিল। তবে কমিশন দীর্ঘ সময় পার করে একটা পূর্নাঙ্গ রায়ে উপনীত হতে পেরেছে। এটা আমাদের কমিশনের একটা পজিটিভি দিক। মামলার সার্টিফাইড কপি উঠিয়ে তারা চাইলে আপিল ও চ্যালেঞ্জও করতে পারেন। সেটা আবার রিভিউ হবে।’
কমিশন সূত্রে জানা যায়, এস আলম সুপার এডিবল অয়েলের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় ‘বাজারে কর্তৃত্বময় অবস্থান’-এর অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। প্রতিযোগিতা কমিশন আইনের ১৫ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ পণ্য বা সেবার উৎপাদন, সরবরাহ, বিতরণ, গুদামজাতকরণ বা অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত কোনো চুক্তিতে বা যড়যন্ত্রমূলক যোগসাজশে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আবদ্ধ হতে পারবে না। এমনটি করার মাধ্যমে বাজারে বিরূপ প্রভাব, মনোপলি বা ওলিগোপলি অবস্থার সৃষ্টি করলে কমিশন আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে মামলা এবং অন্যান্য ব্যবস্থা নিতে পারবে। কমিশন আইন আরও বলছে, পণ্য বা সেবা খাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ক্রয় বা বিক্রয় মূল্য অস্বাভাবিকভাবে নির্ধারণ বাজারের প্রতিযোগিতার আচরণের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। শুধু তা-ই নয়, জালিয়াতপূর্বক দর নির্ধারণের বিরুদ্ধেও কমিশন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে দায়িত্বপ্রাপ্ত। কমিশনের নিজস্ব অনুসন্ধান টিম বাজার পরিস্থিতি মনিটর করে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে বলে দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ৫ মে ভোজ্যতেলের দাম প্রতি লিটারে ৩৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করেছিল সরকার। তবে দাম বাড়ার পরও সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় বিপাকে পড়েন ক্রেতারা। এ অবস্থায় ভোজ্যতেল আমদানি, উৎপাদন এবং কী দামে বিক্রি হচ্ছে সে বিষয়ে তখন অনুসন্ধান করেছিল বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। এর ভিত্তিতে ভোজ্যতেল আমদানিকারক আট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। সেই প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল- সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেড (বিইওএল), মেঘনা ও ইউনাইটেড এডিবল অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড, বসুন্ধরা অয়েল রিফাইনারি মিল, শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম সুপার এডিবল অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, প্রাইম এডিবল অয়েল লিমিটেড এবং গ্লোব এডিবল অয়েল লিমিটেড।
প্রতিযোগিতামূলক বাজার নিশ্চিতে স্বাধীন অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন স্বপ্রণোদিত হয়ে এ মামলা দায়ের করেছিল। প্রতিযোগিতা কমিশন আইনের ১৫(২)-এর ‘খ’ ধারা অনুযায়ী উৎপাদন, সরবরাহ, বাজার, কারিগরি উন্নয়ন, বিনিয়োগ বা সেবার সংস্থানকে সীমিত বা নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ আনা হয় ওই আট কোম্পানির বিরুদ্ধে।
