এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের দর ১২৩ টাকা ছাড়িয়েছে

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে আমদানি বিল পরিশোধ তথা এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের দর ১২৩ টাকা ছাড়িয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) এলসি সেটেলমেন্টে প্রতি ডলারের দাম পড়েছে ১২৩ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ৪০ পয়সা পর্যন্ত। দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি গ্রুপ এদিন এই দরে এলসি নিষ্পত্তি করেছে। এর আগে গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার এলসি সেটেলমেন্ট হয়েছিল ১২৩ টাকা ৫ পয়সায়। সে হিসেবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডলারের দর ২৫ থেকে ৪০ পয়সা পর্যন্ত বেড়েছে। বিষয়টি দেশের কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, সোমবার এলসি সেটেলমেন্ট করতে তাদের প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ৪০ পয়সা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়েছে। এদিকে বেসরকারি একটি ব্যাংকের এক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডলারের দর বাড়ার পেছনে দুটি কারণ তুলে ধরেন। তার মতে, বাজারে ডলারের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে, তবে কোনো ধরনের সংকট নেই। তিনি বলেন, রেমিট্যান্স বাড়লেও রপ্তানি কমে যাওয়ায় সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি হয়ে পড়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের মার্চে রপ্তানি আয় ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। ২০২৬ সালের মার্চে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৪৫ কোটি ডলার, যেখানে ২০২৫ সালের একই সময়ে তা ছিল ৪২৫ কোটি ডলার।

দ্বিতীয়ত, ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম আরও বাড়ার এক রকম শঙ্কা তৈরি হয়েছে। একারণে ফরওয়ার্ড বুকিং দেওয়া অনেক বেড়েছে। অনেকে ব্যাংকই তেলের দাম বাড়ার আশংকা থেকে ফরওয়ার্ড বুকিং নেওয়া বাড়িয়েছে। বেশ কয়েকটি ব্যাংকের জুন পর্যন্ত ফরওয়ার্ড বুকিং করেছে জানিয়েছেন একটি ব্যাংকের ঊর্ধতন কর্মকর্তা। বরং সামনে পণ্যের দাম বাড়ার কারণে ফরওয়ার্ড বুকিং বাড়ার কারণে এক রকম চাহিদা তৈরি হয়েছে। এজন্য ডলারের দাম কিছুটা বেড়েছে।

ফরওয়ার্ড বুকিং হলো ভবিষ্যতের কোনো নির্দিষ্ট তারিখের পণ্য, সেবা বা বিদেশি মুদ্রার দাম বর্তমান সময়েই চুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত লক-ইন বা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া। এটি মূলত ব্যবসায়িক ঝুঁকি (যেমন মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামা) কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়, যেখানে চুক্তির সময় নির্ধারিত মূল্যে ভবিষ্যতে লেনদেন সম্পন্ন হয়।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, জ্বালানি তেলের এলসি খোলা আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। এসব আমদানি ফরওয়ার্ড বুকিং করে দেওয়া হচ্ছে। তাতে এক রকমের চাহিদা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, রেমিট্যান্স বাড়লেও মূলত রপ্তানি কমেছে। এজন্য ডলার সরবরাহ যা রয়েছে—তার চেয়ে চাহিদা বেড়েছে। আবার আমদানি বাড়লে, তা সরাসরি ব্যালেন্স অব পেমেন্টে চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়াবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার ক্রয় করছে না। তবে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যার মাধ্যমে ইতোমধ্যে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি কেনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনলে বাজারে দামের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন, ডলারের বিনিময় হার একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য আপার ব্যান্ড ১৩০ টাকা এবং লোয়ার ব্যান্ড ১২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।