দেশে চলমান এলপিজি সংকটে পরিবহন খাতের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী সংকট যাত্রীসেবা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল মাওলা সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন। ‘এলপিজি সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পরিবহন খাতে’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি সাঈদা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিন পারভেজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. ইকবাল হোসাইন, যুগ্ম অর্থ সম্পাদক মো. মোকবুল হোসেন, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ন কবির ভূঁইয়া, মো. মশিউর রহমানসহ অন্যান্য নেতারা।
সিরাজুল মাওলা জানান, এলপিজি অটোগ্যাস পরিবেশবান্ধব, সহজলভ্য এবং তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী জ্বালানি, যা দীর্ঘদিন ধরে সিএনজি, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সরকারের উৎসাহে দেশে ৬৪ জেলায় প্রায় এক হাজার অটোগ্যাস স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্টেশনের ওপর নির্ভর করে প্রায় দেড় লাখ যানবাহন এলপিজিতে রূপান্তরিত হয়েছে। তবে বর্তমানে তীব্র এলপিজি সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব অটোগ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ রয়েছে।
এর ফলে স্টেশন মালিকদের পাশাপাশি এলপিজি চালিত যানবাহনের মালিক ও চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস না পেয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং যাত্রীরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সংগঠনের সভাপতি জানান, দেশে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে যানবাহন খাতে ব্যবহৃত হয় মাত্র ১৫ হাজার মেট্রিক টন, যা মোট ব্যবহারের প্রায় ১০ শতাংশ। অথচ এই তুলনামূলক সামান্য পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় পুরো এলপিজি অটোগ্যাস শিল্প আজ ধ্বংসের মুখে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—এলপিজি সরবরাহকারী কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সংগঠন যেন অটোগ্যাস খাতের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে। এলপিজি আমদানিতে কোনো জটিলতা থাকলে বিইআরসি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ তা দ্রুত সমাধান করে অপারেটরদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করুক। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এলপিজি সরবরাহে ব্যাঘাত রোধে আগাম ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে সরকারকে বিকল্প উৎস থেকে এলপিজি আমদানির ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
** ভালভ ফেটে লিকেজ, রাজধানীতে গ্যাসের স্বল্পচাপ
** গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তি
** সারাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা
** এলপিজিতে আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব

