Header – After

এলপিজিতে আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব

দেশে বোতলজাত এলপি গ্যাসের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং শিল্পখাতে সুষ্ঠু বাণিজ্যিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ও অগ্রিম কর প্রত্যাহার করে আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)। সংগঠনটির এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)–এর চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই প্রস্তাব দেয় এলপিজি অপারেটরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)। চিঠিতে লোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক উল্লেখ করেন, বর্তমানে এলপিজি উৎপাদন পর্যায়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ২ শতাংশ অগ্রিম কর আরোপ রয়েছে। এই অগ্রিম করের ফলে ব্যবসায়ীদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পুঁজি দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। পাশাপাশি উৎপাদন ও বিপণনের বিভিন্ন ধাপে কিছু ক্ষেত্রে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়, যা সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্যিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে।

লোয়াবের প্রস্তাব অনুযায়ী, উৎপাদন পর্যায়ের ভ্যাট ও আগাম কর প্রত্যাহার করে আমদানি পর্যায়ে ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করলে বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। ভোক্তাদের জন্য সহনীয় বাজারদর নিশ্চিত করতে এনবিআর-কে এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)–এর সূত্র জানিয়েছে, এলপিজি খাত থেকে রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভ্যাট ফাঁকি কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিক ধাপের পরিবর্তে শুধুমাত্র আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট এবং আগাম কর অব্যাহতির বিষয়ে বোর্ড ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের গেজেট প্রকাশ হতে পারে। বর্তমানে এ খাত থেকে বছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করছে এনবিআর।

এদিকে, এলপিজি খাতের সংকট নিরসনে গত ৪ জানুয়ারি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ভ্যাট কমাতে এনবিআর-কে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি এলপিজি শিল্পকে ‘গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ব্যবসায়ীদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার বিষয়েও প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।