এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ

মার্জিন বিধিমালা লঙ্ঘন, গ্রাহকের শেয়ার বিনা অনুমতিতে বিক্রি এবং বেআইনিভাবে ফোর্সড সেল করার অভিযোগে এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সাবেক এফবিসিসিআই পরিচালক মো. আসলাম সেরনিয়াবাতের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, কার সিলেকশনের (ক্লায়েন্ট কোড: ১১৪৪, বিও আইডি: ১২০৫৯৫০০৬২৯২০১৮১) পক্ষে মো. আসলাম সেরনিয়াবাত গত ৪ জুলাই বিএসইসিতে এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের (ডিএসই ট্রেক নং-০৮২) বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন থেকে ডিএসইর প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বরাবর পাঠানো হয়েছে একটি চিঠি।

বিএসইসির পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০-এর রুল ১৭(১) এবং মার্জিন বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ২১(১) অনুসারে ব্রোকারেজ হাউজটি পরিদর্শন করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসইকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১১ ও ১৪ জুন আসলাম সেরনিয়াবাতের কোনো লিখিত বা মৌখিক অনুমতি ছাড়াই এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রায় ৯ কোটি টাকা বাজারমূল্যের ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৩৭৮টি শেয়ার বিক্রি করে দেয়। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গত ১৮ জুন বিএসইসির কাস্টমার কমপ্লেইন অ্যাড্রেসিং মডিউলে (সিসিএএম) অভিযোগ করা হয়। পরে ডিএসই এবং ব্রোকারেজ হাউজটিকেও লিখিতভাবে অবহিত করার পর ৪ জুলাই সরাসরি অভিযোগ দেওয়া হয় বিএসইসি চেয়ারম্যান বরাবর।

অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ তাকে তার মার্জিন ঋণের অনুপাত ১:১-এ নামিয়ে আনার নির্দেশ দেয়। সে সময় তার ঋণের পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ২ লাখ ৯ হাজার ৮২০ টাকা। এর আগে, ২০২৪ সালের ১১ অক্টোবর তিনি অতিরিক্ত ৫ কোটি টাকা জমা দিলে তার মোট ডিপোজিট দাঁড়ায় ১৫ কোটি ৯৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ঋণ-ইক্যুইটির অনুপাত কমে ১:০.৯২-এ নেমে আসে। এরপর ৩০ জুন পর্যন্ত তাকে আর কোনো মার্জিন কল নোটিস দেওয়া হয়নি। তবুও অভিযোগ রয়েছে, ১১ ও ১৪ জুন তার পূর্বানুমতি ছাড়াই শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে, যা মার্জিন বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৯(২) ও ৯(৪)-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন।

এর মাধ্যমে তার হিসাবে কৃত্রিমভাবে বড় ধরনের আর্থিক ঘাটতি সৃষ্টি করা হয়েছে। পরে ৩০ জুন চূড়ান্ত মার্জিন কল দিয়ে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে ১ কোটি ১৬ লাখ ৫১ হাজার ৪১৬ টাকা জমা দিতে বলা হয়; কিন্তু ওই দিন সকালেই আরও প্রায় ৬০ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। মো. আসলাম সেরনিয়াবাত বলেছেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বারবার প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে শেয়ারবাজারের ওপর মানুষ আস্থা হারাবে।