এক বছরে পাঁচটি আইফোন বাজারে আনবে অ্যাপল

অ্যাপল চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ২০২৭ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে অন্তত পাঁচটি নতুন আইফোন মডেল বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে ভাঁজযোগ্য বা ফোল্ডেবল আইফোনের উৎপাদন বাড়ানোর দিকেও জোর দিচ্ছে প্রযুক্তি খাতের এই শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। বৈশ্বিকভাবে যন্ত্রাংশের সরবরাহ সংকট থাকা সত্ত্বেও বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে অ্যাপল। এ তথ্য জানিয়েছে নিক্কেই এশিয়া, তাদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানটি তাদের সরবরাহকারীদের চলতি বছরে প্রায় ১ কোটি ফোল্ডেবল আইফোন উৎপাদনের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দিয়েছে। এর আগে উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল ৭০ থেকে ৮০ লাখ ইউনিট। প্রথমবারের মতো ফোল্ডেবল আইফোন বাজারে আনার আগে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে উন্মোচনের জন্য নতুন মডেলগুলোর প্রায় ৮ কোটি স্মার্টফোনের যন্ত্রাংশ উৎপাদন ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে অ্যাপল।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর অ্যাপলের মোট স্মার্টফোন উৎপাদন ২২ কোটির বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংশ্লিষ্ট চাহিদার কারণে শিল্পে যন্ত্রাংশের সংকট তৈরি হলেও মেমোরি ও অন্যান্য উপাদান সংগ্রহে অ্যাপলের সক্ষমতা এবং ক্রয়ক্ষমতা প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেক বেশি। এর ফলে স্মার্টফোন যন্ত্রাংশের সংকট মোকাবিলায় অ্যাপল চীনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান শাওমি, অপো ও ভিভোর তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। সব প্রতিষ্ঠান তাদের বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ১০ কোটির নিচে নামিয়ে এনেছে।

অ্যাপল ও শাওমি—দুই প্রতিষ্ঠানেরই সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা জানান, অ্যাপলের দর–কষাকষির শক্তির তুলনায় চীনা স্মার্টফোন নির্মাতারা অতিরিক্ত মেমোরি চিপ সংগ্রহ বা বাড়তি দামে সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। এ কারণে বসন্তে নতুন আইফোন উন্মোচনের মাধ্যমে বাজারের আরও বড় অংশ দখলে নিতে অ্যাপল এগিয়ে আছে। বিশ্বজুড়ে এআই ডেটা সেন্টারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মেমোরি চিপের সংকট দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব পুরো প্রযুক্তি শিল্পে পড়ে উৎপাদন ব্যয় বাড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের জোগান নিশ্চিত করতে অ্যাপল সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে গতকাল ব্লুমবার্গ জানায়, চীনে বিক্রি হওয়া ডিভাইসগুলোর জন্য মেমোরি চিপ সংগ্রহে চীনের চ্যাংসিন মেমোরি টেকনোলজিস (সিএক্সএমটি) এবং ইয়াংজি মেমোরি টেকনোলজিসের (ওয়াইএমটিসি) সঙ্গে আলোচনা করছে অ্যাপল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) এই দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের সামরিক বাহিনীকে সহায়তার অভিযোগ এনে তালিকাভুক্ত করেছে। যদিও অ্যাপল প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, আলোচনা এখনো চলমান।

ভোক্তা ইলেকট্রনিকস খাতে মেমোরি চিপের সংকট উৎপাদনে চাপ সৃষ্টি করায় অ্যাপল তাদের সরবরাহকারী নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে প্রতিষ্ঠানটি অন্তত দুটি নতুন আইফোন উন্মোচন করবে, যার মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড আইফোন ১৮ এবং নতুন আইফোন এয়ার মডেল থাকবে। একই সময়ে, মেমোরি ও স্টোরেজ ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় গত সপ্তাহে অ্যাপল তাদের ম্যাকবুক ও আইপ্যাড সিরিজের দাম বাড়িয়েছে। তবে এ বিষয়ে সিএনবিসির পক্ষ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।