একাধিক গাড়ি থাকলে দিতে হবে পরিবেশ সারচার্জ

কোনো ব্যক্তির নামে একাধিক গাড়ি বা মোটরযান থাকলে অতিরিক্ত সারচার্জ দিতে হবে, যা পরিবেশ সারচার্জ হিসেবে পরিচিত। আগের মতোই একাধিক গাড়ির ক্ষেত্রে বিভিন্ন হারে এই পরিবেশ সারচার্জ আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কোনো ব্যক্তির নামে একাধিক মোটরগাড়ি থাকলে প্রত্যেকটি গাড়ির জন্য সারচার্জ দিতে হবে। ১৫০০ সিসি বা ৭৫ কিলোওয়াট পর্যন্ত প্রতিটি মোটরগাড়ির জন্য পরিবেশ সারচার্জের হার ২৫ হাজার টাকা, ১৫০০ সিসি বা ৭৫ কিলোওয়াটের অধিক কিন্তু ২০০০ সিসি বা ১০০ কিলোওয়াটের অধিক নয় এমন প্রতিটি মোটরগাড়ির জন্য ৫০ হাজার, ২০০০ সিসি বা ১০০ কিলোওয়াটের অধিক কিন্তু ২৫০০ সিসি বা ১২৫ কিলোওয়াটের অধিক নয় এমন প্রতিটি মোটরগাড়ির জন্য ৭৫ হাজার, ২৫০০ সিসি বা ১২৫ কিলোওয়াটের অধিক কিন্তু ৩০০০ সিসি বা ১৫০ কিলোওয়াটের অধিক নয়, এমন প্রতিটি মোটরগাড়ির জন্য দেড় লাখ টাকা, ৩০০০ সিসি বা ১৫০ কিলোওয়াটের অধিক কিন্তু ৩৫০০ সিসি বা ১৭৫ কিলোওয়াটের অধিক নয় এমন প্রতিটি মোটরগাড়ির জন্য দুই লাখ টাকা এবং এর চেয়েও বেশি সিসি বা কিলোওয়াট হলে অর্থাৎ সাড়ে তিন হাজার সিসি বা ১৭৫ কিলোওয়াটের অধিক প্রতিটি মোটরগাড়ির জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকা সারচার্জ দিতে হবে।

তবে শর্ত থাকে যে, একাধিক গাড়ির ক্ষেত্রে যে গাড়ির ওপর সর্বনিম্ন হারে পরিবেশ সারচার্জ আরোপিত হবে ওই গাড়ি ব্যতীত অন্যান্য গাড়ির বিপরীতে পরিবেশ সারচার্জ পরিশোধ করতে হবে। পরিবেশ সারচার্জ গাড়ির নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নকালে নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উৎসে সংগৃহীত হবে।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয়-ব্যয়ের ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছে।