উৎসে কর গণ্য হবে অগ্রিম কর হিসেবে

দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের সমালোচনার মুখে থাকা ন্যূনতম করের বিতর্কিত বিধান বাতিল করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উৎসে কেটে রাখা অর্থ আর বাধ্যতামূলক ন্যূনতম কর হিসেবে গণ্য করা হবে না; বরং এটিকে অগ্রিম কর হিসেবে সমন্বয়ের সুযোগ দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় এ ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আগে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের করযোগ্য আয় না থাকলেও উৎসে কাটা কর ফেরত দেওয়া হতো না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ফলে এখন নতুন বিধানে সীমিত আয়ের ব্যক্তি ও লোকসানি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে।

সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ বললেন, এটি ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ। তবে এর সাফল্য নির্ভর করছে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর। রিফান্ডের টাকা সঠিকভাবে ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন সহজ প্রক্রিয়া। যেন কোনো হয়রানির শিকার না হয়। সে ব্যাপারে নির্দেশনা থাকা দরকার।

বর্তমান ব্যবস্থায় বিভিন্ন পর্যায়ে উৎসে কাটা করের একটি অংশ ন্যূনতম কর হিসেবে গণ্য করা হয়। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আয় না থাকলেও ওই কর ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে না, এতে ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলো বিশেষ করে তারল্য সংকটে পড়ে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে করপোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখা হলেও ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। উৎসে কর না কাটার কারণে করমুক্ত খরচ বাতিলের বিধান প্রত্যাহার করা হচ্ছে, ফলে ব্যবসায়ীদের করযোগ্য আয় কমবে। পাশাপাশি অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল এবং অডিট নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বয়ংক্রিয় ও ঝুঁকিভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।