নোয়াখালীর ভাসানচরে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ থাকায় তারা রান্নার জ্বালানির জন্য বন থেকে কাঠ সংগ্রহ করছে। এতে উপকূলীয় বন উজাড়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখতে নতুন দাতা সংস্থার সন্ধান করছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবর্তন কমিশন। এ বিষয়ে কমিশন ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এনজিও ব্যুরো, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোতে চিঠি পাঠিয়েছে।
সূত্র জানায়, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ৩৭ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পাঠানো হয়েছে। ভাসানচরে বসবাসরত এসব রোহিঙ্গার জন্য প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ হাজার গ্যাস সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়। কিন্তু ‘ইসলামি রিলিফ’ নামে একটি এনজিওর মাধ্যমে তাদের জন্য তিন হাজার গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করা হতো। এনজিওটির চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করার কথা ছিল।
কিন্তু দুই মাস আগে, গত জানুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানটি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। রোহিঙ্গাদের জন্য ইসলামি রিলিফের গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত ছিল, পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের আগেই তা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আগে থেকেই রোহিঙ্গাদের একটি অংশ উপকূলীয় বন থেকে কাঠ সংগ্রহ করে জ্বালানির লাকড়ি হিসেবে ব্যবহার করত। ইসলামি রিলিফের গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবাই এখন উপকূলীয় বন থেকে কাঠের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
বিপুল পরিমাণ কাঠ সংগ্রহের কারণে উপকূলীয় বন দ্রুত উজাড় হচ্ছে। এতে ভাসানচরে বসবাসরত জনগোষ্ঠী পরিবেশগত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবর্তন কমিশন। বন থেকে লাকড়ি এনে জ্বালানির চাহিদা পূরণ করায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও বেড়েছে। একটি ঘরে আগুন লাগলে তা দ্রুত আশপাশের বহু ঘরে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে, ফলে প্রাণহানির আশঙ্কাও তৈরি হয়। ইতোমধ্যে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করতে দাতা সংস্থাগুলোর সহায়তা চেয়েছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবর্তন কমিশন।
ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের জন্য গ্যাস সরবরাহ বিষয়ে জানতে ইসলামি রিলিফ বাংলাদেশ-এর কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়। এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির পলিসি, অ্যাডভোকেসি, সিস্টেমস ইনোভেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস বিভাগের ম্যানেজার এ ডব্লিউ এম আনিসুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ভিত্তিতে ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের জন্য গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছিল।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন তহবিল কমে যাওয়ায় ইসলামি রিলিফের অর্থায়নও হ্রাস পায়। ফলে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে কর্মসূচিটি পুনরায় চালুর জন্য নতুন দাতাদের সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মার্চ মাস থেকে ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা আবার শুরু করা সম্ভব হবে। সেক্ষেত্রে আগের মতো প্রতি মাসে তিন হাজার গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে।
