ঈদে ৭০০ কোটি টাকার সেমাইয়ের বাজার

** সেমাইয়ের বার্ষিক বাজার ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি
** ঈদের বাজারে ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত সেমাইয়ের চাহিদা বেশি
** ৭০ শতাংশ প্যাকেটজাত আর ৩০ শতাংশ খোলা সেমাই বিক্রি
** সেমাইয়ের বার্ষিক চাহিদা বাড়ছে ১০ শতাংশ হারে
** বাংলাদেশের সেমাই রপ্তানি হচ্ছে ৪০টি দেশে

ঈদুল ফিতর মানেই সেমাই আর চিনির মিষ্টি সুবাসে ঘর ভরে ওঠা। এই পবিত্র উৎসবে সেমাই ছাড়া যেন আনন্দ অপূর্ণই থেকে যায়। তাই শেষ রমজানে এসে রাজধানীর বাজারগুলোতে সেমাই কেনার ধুম লেগে যায়। ঈদবাজারে যত কেনাকাটা আছে তার মধ্যে সেমাইও থাকে অগ্রাধিকারে। বর্তমানে সেমাইয়ের বার্ষিক বাজার ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি, দেশীয় করপোরেট কোম্পানিগুলোর দাপটে বাজারের ৭০ শতাংশ সেমাই এখন তাদের দখলে। শুধু দেশের নয়, বিদেশেও প্রায় ৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে এই সেমাই।

রাজধানীর শান্তিনগর বাজার, খিলগাঁও, রামপুরা, হাতিরপুল, মোহাম্মদপুর ও কাওরানবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি মুদি দোকানেই আলাদাভাবে পসরা সাজানো হয়েছে সেমাইয়ের। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যারাই এখন দোকানে আসছেন কোনো পণ্য কিনতে তাদের মধ্যে বেশিরভাগ ক্রেতারা সেমাইও কিনছেন। রামপুরা বাজারের মুদি দোকানদার রুবেল জানান, এখন প্যাকেটের সেমাই ক্রেতারা বেশি কিনে থাকেন। তবে খোলা সেমাইও অনেকে কেনেন। সেটা কম। দোকানে সব ক্রেতার কথা মাথায় রেখে প্যাকেটজাত আর খোলা সেমাই দুটোই রাখছি। যেন কোনো ক্রেতা এসে ফিরে না যান।

শান্তিনগর বাজারের মুদি দোকানদার রায়হান আহমেদ খোলা সেমাইয়ের চেয়ে প্যাকেটজাত সেমাই বেশি বিক্রি করেন বলে জানিয়েছেন। তার মতে, ক্রেতারা অনেক সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় খোলা সেমাই বানানোর ভিডিও ভাইরাল হয়, যা দেখে ক্রেতারা সেগুলো কিনতে চান না। তাই প্যাকেটজাত ব্র্যান্ডের সেমাই ক্রেতারা বেশি কেনেন। তার দোকানে বনফুল, প্রাণ, কিষোয়ান, কুলসনসহ বেশকিছু কোম্পানির সেমাইয়ের প্যাকেট দেখা গেছে। খিলগাঁয়ের এক বিক্রেতা বলেন, ‘প্যাকেট সেমাই অনেকে পছন্দ করেন। প্যাকেটে মেয়াদ বেশি থাকে; আর খোলা সেমাই বেশিদিন রাখা যায় না। তাই বিক্রি করে মজা হচ্ছে প্যাকেটজাত সেমাই।’
রাজধানীর কাওরানবাজারে খোলা এবং প্যাকেটজাত দুই ধরনের সেমাই দেখা গেছে। তবে খোলা সেমাইয়ের মধ্যে লাল-হলুদ রঙের মিশ্রণ সেমাইও ধরে ধরে পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। ঈদের সময় কিছু ক্রেতা আছেন যারা রঙিন এসব সেমাই কিনে থাকেন বলে বিক্রেতারা জানান। সেমাই কিনতে আসা ফার্মগেটের দীপ্ত বললেন, রোজার ঈদে সেমাই না হলে নয়। তবে আমার পরিবারে ঈদের কয়েকদিনই সেমাই লাগে। তাই লাচ্ছা আর বাংলা দুটোই বেশি করে কিনে নিয়েছি। তবে তিনি খোলা সেমাইয়ের চেতয় প্যাকেজাত সেমাই কেনার পক্ষে মত দিয়ছেন।

অপরদিকে শহরের নিম্নমধ্যবিত্ত এলাকায় ঘুরে খোলা সেমাই বেশি বিক্রি হতে দেখা গেছে। যেসব এলাকায় দিনমজুর, শ্রমিক আর খেটে খাওয়া মানুষ রয়েছেন সেখানকার মুদি দোকানগুলোতে খোলা সেমাই বেশি বিক্রি হচ্ছে। সরেজমিন ঘুরে রাজধানীর মান্ডা, ধোলাইপাড়, দনিয়া, শনিরআখড়া, কেরানীগঞ্জ, ধূপখোলা, যাত্রাবাড়ী এলাকার মুদি দোকানগুলোতে খোলা সেমাই বেশি বিক্রি হলেও কিছু কিছু দোকানে প্যাকেট সেমাইও দেখা গেছে।

সেমাইয়ের নানা রকমের মতো এর দামেও রয়েছে ভিন্নতা। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে লাচ্ছা সেমাইয়ের ২০০ গ্রামের প্যাকেট কোম্পানি-ভেদে ৪৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাংলা সেমাইয়ের প্যাকেট ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছু কিছু কোম্পানির ঘিয়ে ভাজা বা স্পেশাল প্যাকেট রয়েছে যেগুলো ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া খোলা লাচ্ছা সেমাই বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। অন্যদিকে খোলা চিকন সেমাই (বাংলা সেমাই) ১৩০ থেকে ১৮০ টাকা দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। গত বছরের সঙ্গে এ বছর দাম খুব একটা বেশি বাড়েনি বলে বিক্রেতারা উল্লেখ করেছেন।

তাদের মতে, ৫ থেকে ১০ টাকা প্যাকেটপ্রতি সেমাইয়ের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে ব্র্যান্ডের কিছু সেমাইয়ের দামের খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রাণের ২০০ গ্রাম লাচ্ছা সেমাইয়ের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা, কুলসন (২০০ গ্রাম) ৪৫ ও বনফুল ৫০ টাকা। এ ছাড়া প্রাণের ৪০০ গ্রাম ঘি সেমাই বিক্রি হচ্ছে ২০০, ৫০০ গ্রাম প্যাকেটের বম্বের ইনস্ট্যান্ট জাফরানি সেমাই ১৮০, বনফুল ২০০ ও অলিম্পিয়ার ৫০০ গ্রামের সেমাইয়ের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়।

সেমাইয়ে বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে বছরে সেমাইয়ের চাহিদা ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টন। দেশে ৪০টির বেশি কোম্পানি রয়েছে, যারা তাদের উৎপাদিত সেমাই মোড়কজাত করে বিক্রি করে। এসব কোম্পানির বাইরে অনেক মৌসুমি প্রতিষ্ঠান উৎসবকেন্দ্রিক খোলা ও মোড়কজাত সেমাই উৎপাদন করে। তবে বাজারে এখন নেতৃত্ব দিচ্ছে বড় বড় কোম্পানি। এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছে বনফুল, কুলসন, প্রাণ, বোম্বে, রাধুনী, এসিআই, ইস্পাহানি, ওয়েল ফুড, বসুন্ধরা, সেজান, রোমানিয়া, কোকোলা, কিষোয়ান, ইফাদ, ড্যানিশ, ডেকোসহ আরও কিছু কোম্পানির সেমাই।

প্রাণ আরএফএল গ্রুপের সেমাই বিপণন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিতোষ পাল বলেন, ‘ঈদে স বসময়ই সেমাইয়ের চাহিদা বাড়ে। এবারও তাই হয়েছে। ব্র্যান্ডের সেমাইয়ের দিকে ক্রেতাদের চাহিদা থাকে বেশি এবং এটি আরও বাড়ছে। উৎসবের সময় সেমাইয়ের চাহিদা সব সমই থাকে। এবারই এর ব্যতিক্রম নয়।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছোট কিছু কোম্পানিও সেমাইয়ের বাজার দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যারা আস্তে আস্তে তাদের বাজার বড় করায় কাজ করছে। এ রকম কিছু ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে আর ডি (রংপুর ডেইরি), সুলতান, আশার আলো, স্বাদসহ আরও কিছু কোম্পানি। আর ডি- এর ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন অ্যান্ড অ্যাডমিন প্রধান জাকারিয়া আমান বলেন, ‘সেমাইয়ের বাজার বড় হচ্ছে। আমরা আসলে কোয়ালিটি পণ্য ভোক্তাদের দিয়ে থাকি। আমাদের ইউএইচটি দুধ উৎপন্ন করাই প্রধান কাজ। তবে সেমাইটা আমরা ঈদকেন্দ্রিক বেশি করে থাকি। মার্কেটে আমাদের সেমাইয়ের আস্তে আস্তে একটা চাহিদা তৈরি হচ্ছে।’

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাজারে চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ সেমাই করপোরেট কোম্পানিগুলো জোগান দিয়ে থাকে। বাকি ৩০ শতাংশ নন ব্র্যান্ডের খোলা সেমাই বাজারে চাহিদা পূরণ করছে। তবে নন ব্র্যান্ডের ৩০ শতাংশের সেমাইয়ের মধ্যে স্থানীয়ভাবে উৎপন্ন সেমাই বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাচ্ছে। তার মধ্যে রয়েছে বগুড়া ও চাঁদপুরের ঐতিহাসিক সেমাই উৎপন্ন করা কিছু কোম্পানি।
বগুড়ার আকবরিয়া লাচ্ছা সেমাইয়ের মার্কেটিং প্রধান আঁকি রহমান বলেন, ‘সারা বছরের তুলনায় ঈদে আমাদের সেমাইয়ের চাহিদা বেশি থাকে। তবে গত কয়েক বছরে ঐতিহ্যবাহী এই সেমাইয়ের চাহিদা আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। আমাদের মার্কেটটা ক্রমেই ছোট হচ্ছে।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়ার আরও কিছু কোম্পানির সেমাইয়ের জনপ্রিয়তা রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে এশিয়া, শ্যামলী, কোয়ালিটি, খাজা বেকারি, ফুড ভিলেজের মতো আরও বেশকিছু কোম্পানির সেমাই, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হচ্ছে। বগুড়ার ব্যবসায়িক সমিতির দেওয়া তথ্যমতে, প্রতি বছর প্রায় ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকার খোলা সেমাই উৎপাদন করে থাকে জেলার ছোট-বড় সেমাই কারখানাগুলো।

অপরদিকে সেমাই ব্যবসা-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে প্রতি বছর সেমাইয়ের চাহিদা প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে বলে জানা গেছে। কিষোয়ানের মার্কেটিং হেড শামীম আহমেদ বলেন, ‘ঈদ ছাড়াও সেমাইয়ের একটা বাজার রয়েছে। সারা বছর মানুষ সকাল-বিকাল নাস্তাসহ আতিথেয়তায় সেমাইয়ের চাহিদা বাড়ছে। ফলে এর বাজারও ক্রমে বাড়ছে। আমাদের হিসাবমতে, প্রতি বছর ৫ থেকে ১০ শতাংশ হারে সেমাইয়ের চাহিদা বাড়ার দিকে রয়েছে।’

ক্যাবের তথ্যমতে, বাংলাদেশে সেমাইয়ের বার্ষিক বাজার প্রায় ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যার সিংহভাগ প্রায় ৭০০ কোটি টাকা রোজার ঈদকেন্দ্রিকই বিক্রি হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খোলা সেমাইয়ের জায়গা দখল করে এখন নামি-দামি ব্র্যান্ডের মোড়কজাত সেমাইয়ের চাহিদা বেশি। প্রতি বছর ১০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিদেশেও, বিশেষ করে বিশ্বের ৪০টি দেশে, বাংলাদেশি সেমাই রপ্তানি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশের পাশাপাশি তাই ক্রমে বড় হচ্ছে বিদেশের বাজারও। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাঙালি থাকায় এই চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। বিদেশে বেড়ে যাওয়া এ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে দেশি করপোরেট কোম্পানিগুলো।

চট্টগ্রামে সেমায়ের বাজার

অপরদিকে, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের বাজারগুলোতে সেমাই বিক্রি বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে সেমাইয়ের দামও। বাজারে দুই ধরনের সেমাই বিক্রি হচ্ছে— লাচ্ছা ও চিকন। এর মধ্যে লাচ্ছা সেমাইয়ের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। বিভিন্ন বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার প্রকারভেদে খোলা সেমাইয়ের দাম কেজিতে অন্তত ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। আর বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত সেমাইয়ের দামও বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা করে। চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট, চকবাজার ও রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, বনফুল, মধুবন, কিষোয়ান, ডায়মন্ড, ওয়েল ফুড ব্র্যান্ডের ২০০ গ্রাম ওজনের প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। গত বছর রমজানের ঈদের সময় এসব সেমাইয়ের দাম ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। এ ছাড়া ২০০ গ্রাম ওজনের প্যাকেটজাত চিকন সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। ব্র্যান্ড ভেদে ঘি ও কিশমিশযুক্ত প্যাকেটজাত সেমাই পাওয়া যাচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। খোলা লাচ্ছা সেমাই বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে। খোলা চিকন সেমাই প্রতি কেজি ২০০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে। বহদ্দারহাট এলাকার দোকানি মো. মামুন উদ্দিন বলেন, ‘প্রতি বছর ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে মানুষ ঈদের বাজার শুরু করে। এ বছরও বিক্রি ভালো হচ্ছে। তবে দাম গত রোজার ঈদের চেয়ে কিছুটা বেশি।’

অপরদিকে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবারের তালিকায় বিশেষ স্থান করে নিয়েছে ‘ফকির কবিরের’ চাক সেমাই। গত ৯০ বছরের ঐতিহ্য ও স্বাদের ধারাবাহিকতায় এখনও সমান জনপ্রিয় এই সেমাই। নগরের চকবাজার এলাকার কাপাসগোলা রোডের তেলিপট্টির মুখে অবস্থিত মেসার্স ফকির কবির বেকারি। ব্রিটিশ আমল থেকেই প্রতিষ্ঠানটির তৈরি বিশুদ্ধ চাক সেমাই চট্টগ্রামের মানুষের কাছে পরিচিত। ১৯৩৬ সালে ভাড়া করা একটি ঘর থেকে যাত্রা শুরু করে এই বেকারি। দীর্ঘ সময় ধরে সেই ঐতিহ্যের ধারাই বহন করে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানিটির ব্যবস্থাপক দিলীপ কুমার সিংহ জানান, আমাদের সারা বছর বিক্রি ভালো। আর রমজান ও ঈদ মৌসুমে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ১৮০ কেজি সেমাই বিক্রি হয়। প্রতি কেজির দাম ২৫০ টাকা। রমজানের আগে কিছু সেমাই পাইকারি বিক্রি করা হলেও এখন খুচরা ক্রেতাদের চাহিদা সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।