ভূমধ্যসাগরে ডুবে যাওয়া বা লিবিয়ায় দালালদের নির্যাতনে অসংখ্য প্রাণহানির পরও সচ্ছল জীবনের স্বপ্নে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা থামছে না। সর্বশেষ, গত শুক্রবার গ্রিস উপকূলে নৌকা ডুবে ১৮ থেকে ২০ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথে বছরে অন্তত ৫০০ বাংলাদেশি মারা যান, যদিও অনেকের ধারণা প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। সাগরে প্রাণহানি, লিবিয়ায় অপহরণ, মুক্তিপণের জন্য আটক ও নির্যাতনসহ হত্যার ঘটনায় দালাল ও মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। গত বছর সারা দেশে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে বিচারাধীন ও তদন্তাধীন মামলা ছিল মোট ৪ হাজার ৪৮০টি। তবুও এই বিপজ্জনক স্বপ্নযাত্রা থামছে না।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত শুক্রবার অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার সময় গ্রিস উপকূলে ওই নৌকাডুবিতে ১৮-২০ জন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার পাশাপাশি ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির পর ২৩ জনের অর্ধগলিত মরদেহ ২৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি লিবিয়ার পূর্ব উপকূলের সৈকতে ভেসে এসেছিল। পরিচয় শনাক্ত না করতে পারায় তাঁদের লিবিয়ায় দাফন করা হয়। মৃতদের অবয়ব ও পোশাকের ধরনে তাঁদের সবাইকে বাংলাদেশি মনে হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকাডুবিতে ৮ বাংলাদেশি নিহত হন।
২০২৩ সালের ১৩ মার্চে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হওয়া ৩০ জনের ভাগ্য এখনো অজানা। একই বছরের ৯ আগস্ট রাতে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হন নরসিংদীর বেলাব উপজেলার ৯ তরুণ। এর আগে ২৪ জুন ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে স্পিডবোট ডুবে নরসিংদীর এক তরুণ নিহত এবং নিখোঁজ হন ১৩ তরুণ।
২০২০, ২০২১ ও ২০২২ সালেও একাধিক নৌকাডুবিতে প্রাণহানি হয়। এর মধ্যে ২০২১ সালের জুনে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে বাংলাদেশ, মিসরসহ চারটি দেশের অন্তত ৪৩ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা যান। সাগরপথে এই মৃত্যুঝুঁকি নেওয়ার সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি নৌকাডুবির ঘটনাও বাড়ছে বলে দাবি করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক বলেছে, প্রতিবছর লিবিয়া থেকে সাগরপথে ইউরোপ যাওয়ার এই রুটে অন্তত ৫০০ বাংলাদেশি মারা যান। গত ১০ বছরে ভূমধ্যসাগরে ৩০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা গেছেন, যাঁদের বেশির ভাগ বাংলাদেশি। শুক্রবারের নৌকাডুবির পর আইওএম জানায়, গত ১০ দিনে কয়েকটি নৌকাডুবি হয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েক শ অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণহানি হয়ে থাকতে পারে বলে সংস্থাটির আশঙ্কা।
