ঢাকার একটি আলোচিত করপোরেট আয়োজনে আচরণগত অসদাচরণের অভিযোগে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টারের গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগটি করেছেন ‘টিএন’ (পূর্ণ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক), যিনি নিজেকে একজন মিডিয়া পেশাজীবী ও ক্লিনিক্যাল গবেষক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি ইউনিলিভারের সাউথ এশিয়া অঞ্চলের পিপল এক্সপেরিয়েন্স অ্যান্ড ইকুইটি, ডাইভারসিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন (ইডিঅ্যান্ডআই) বিভাগের পরিচালক নাবিলা জাবিন খানের বিরুদ্ধে ‘শত্রুতাপূর্ণ, অসম্মানজনক ও হয়রানিমূলক’ আচরণের অভিযোগ তুলেছেন।
আসন নিয়ে বিরোধ, উত্তেজনা
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, অনুষ্ঠানে পৌঁছানোর পর ইভেন্ট স্টাফ তাঁকে একটি চিহ্নবিহীন আসনে বসার নির্দেশ দেন। নিজেকে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও অভিযুক্ত কর্মকর্তা তাকে ওই আসন ছেড়ে দিতে বলেন, তবে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা দেননি। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তা মৌখিকভাবে আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। অভিযোগকারী দাবি করেন, তাঁকে আসন থেকে সরিয়ে দিতে ইভেন্ট স্টাফদের নির্দেশ দেওয়া হয়, যদিও তখন ভেন্যু পূর্ণ ছিল।
চারবার মুখোমুখি, অনুষ্ঠান ত্যাগ
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, একই ধরনের মুখোমুখি পরিস্থিতি মোট চারবার সৃষ্টি হয়, যা পুরো পরিবেশকে অস্বস্তিকর করে তোলে। শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠান শুরুর আগেই ‘টিএন’ স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তিনি এ অভিজ্ঞতাকে ‘মানসিকভাবে অস্থিরতাপূর্ণ’ উল্লেখ করে বলেন, এমন আচরণ কোনোভাবেই করপোরেট শিষ্টাচার ও পারস্পরিক সম্মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগে টিএন তাঁর পেশাগত পরিচয় তুলে ধরে জানান, তিনি একজন ইন্টিগ্রেটিভ সাইকোথেরাপিস্ট এবং ব্রিটিশ সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল হিপনোসিসের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে দেশের মিডিয়া অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ইডিঅ্যান্ডআই বিভাগের নেতৃত্বের উপযুক্ততা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, অভিযোগে বর্ণিত আচরণ অন্তর্ভুক্তি ও পারস্পরিক সম্মানের নীতির পরিপন্থী।
তদন্ত দাবি, নীরব কর্তৃপক্ষ
অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের নৈতিকতা ও কমপ্লায়েন্স নীতিমালা অনুযায়ী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইউনিলভার। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি কোম্পানির জনসংযোগ সংস্থার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
** পরিবেশকের ৮.৫৩ কোটি টাকার ক্ষতি করেছে ‘ইউনিলিভার’
** ইউনিলিভারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি
** ‘সেবা আমদানির’ নামে রাজস্ব ফাঁকি ১৮২৫ কোটি টাকা
** পিওরইট: নামের পিওর, মানে নয়!
** ইউনিলিভারের ডিস্ট্রিবিউশন হাইকোর্টে স্থগিত
