বন্ডেড প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি জালিয়াতি করে ইউডি (ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন)। ইউডি জালিয়াতির মাধ্যমে আমদানি করা বন্ড সুবিধার কাপড়, এক্সেসরিজ খোলাবাজারে বিক্রি করে দেয় প্রতিষ্ঠান। যার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা শুল্ককর ফাঁকি হচ্ছে। ম্যানুয়াল বা কাগুজে ইউডি হওয়ায় তা সহজে প্রতিষ্ঠান জালিয়াতি করতে পারে। আর জনবল ও প্রযুক্তি দুর্বলতার জন্য বন্ড কমিশনারেট বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জাল ইউডি সনাক্ত করতে পারে না। এই জাল ইউডি তৈরি হয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোতে থাকা এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তাদের যোগসাজসে। তবে জাল ইউডির মাধ্যমে শুল্ককর ফাঁকির দিন শেষ হচ্ছে। জাল ইউডি বন্ধে কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড ও বিজিএমইএ এর সঙ্গে আন্তঃসংযোগ স্থাপন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সম্প্রতি বিজিএমইএ এর ই-ইউডির সঙ্গে এই সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে।
এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড ও বিজিএমইএ এর ই-ইউডি পদ্ধতির মধ্যে আন্তঃসংযোগ স্থাপন করেছে এনবিআর। বন্ড ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও যুগপোযোগী করা, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল ও রপ্তানি করা পণ্যের শুল্কায়ন দ্রুততর করা এবং যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াকে প্রযুক্তিনির্ভর করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে এই সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আন্তঃসংযোগের পূর্বে ইউডি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল ভেরিফিকেশন ও বিজিএমইএর সিস্টেমের উপর নির্ভরশীলতা থাকায় বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত জটিলতায় খালাস প্রক্রিয়া বিলম্বের পাশপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান ছিল।
এনবিআর বলছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে ইউডি যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে অনলাইন ও রিয়েল-টাইম ভিত্তিক হবে। কাগজপত্রের ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে। রাজস্ব সুরক্ষা ও ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। আমদানি-রপ্তানি পণ্যের খালাস প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে। বন্ড ব্যবস্থাপনা যুগোপযোগী হবে। ইন্টিগ্রেশনের পাইলটিং কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে ‘ই-ইউডি রাইট অফ’ সংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এনবিআর এবং বিজিএমইএ-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই কার্যক্রম পেপারলেস কাস্টমস ব্যবস্থা প্রবর্তনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সহজীকরণ ও কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
