পণ্য আমদানির আড়ালে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার অভিযুক্তরা হলেন— প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আজিমুল ইসলাম, পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম এবং দুই স্বতন্ত্র পরিচালক তানিম নোমান সাত্তার ও মো. আজহারুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।
তিনি জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও সংগৃহীত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও এমডিসহ সংশ্লিষ্ট পরিচালক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বুধবার (৭ জানুয়ারি) ডিএমপির গুলশান থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিশেষ পুলিশ সুপার জানান, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে গুলশানে এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ পিএলসি’র (এক্সিম ব্যাংক) হেড অফিস থেকে ৬টি এলসি বা সেলস্ কন্ট্রাক্ট দিয়ে ৫৬টি ইএক্সপি গ্রহণ করে। বিপরীতে রেডিমেড গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি করে নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও এখন পর্যন্ত রপ্তানিমূল্য প্রত্যাবাসন করেনি বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে সত্যতা পাওয়া গেছে।’
সিআইডি সূত্রে জানা যায়, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বৈধ আমদানির ঘোষণা দিলেও প্রকৃতপক্ষে ঘোষণাকৃত পণ্যের তুলনায় কম বা ভিন্ন পণ্য আমদানি করে প্রায় ২৮ কোটি ৪০ লাখ ৮৮ হাজার ৮১৪ টাকা বিদেশে পাচার করেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই বিপুল অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা নীতিমালা লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে বিদেশে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, ঘটনার অনুসন্ধানে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নিবন্ধিত কার্যালয় ও কারখানার নথিপত্র, আমদানি সংক্রান্ত কাগজপত্র, এলসি ডকুমেন্ট, ব্যাংক হিসাব বিবরণী এবং অন্যান্য আর্থিক তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে অনিয়মের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য ও পরিমাণে কারচুপি বা গড়মিল দেখিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার অপব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, এর সাথে জড়িত অজ্ঞাত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান।
** ১০১ অর্থ পাচারকারী শনাক্ত, ২০০ কোটি করে পাচার
** সাত ব্যক্তি-২ প্রতিষ্ঠান পাচার করেছে ১০১ কোটি টাকা
** রপ্তানির ছলে ১৫০০ কোটি টাকা পাচার
** অর্থ পাচার রোধে বিশেষ ইউনিট গড়তে চায় এনবিআর
** মোবাইল ব্যাংকিংয়ের আড়ালে দম্পতির অর্থপাচার
** মেঘনা গ্রুপের এক লাখ কোটি টাকা পাচার
** পাচারের শতকোটি টাকা আসতে পারে চলতি বছরেই
** ফাঁকি-পাচার আয়কর ও ভ্যাট গোয়েন্দাকে তদন্তের সুপারিশ
** ছয় মাসে পাচার সম্পদ ফ্রিজে প্রস্তুত কেন্দ্রীয় ব্যাংক
** অর্থ পাচারকারীদের জীবন কঠিন করে ফেলা হবে
** পাচারের টাকায় বিদেশে ‘কামাল পরিবারের’ সাম্রাজ্য
** লোপাটের ৬১৬ কোটি টাকা কানাডায় পাচার
** পাচারের অর্থ ফেরাতে শ্রীলঙ্কার সহায়তা চেয়েছে ঢাকা
** পাচারের টাকায় ৮ গ্রুপের বৈশ্বিক সাম্রাজ্য
** পাচারের টাকায় দুবাইয়ে বাপবেটার অট্টালিকা
** ইনকামিং কল: দুই প্রতিষ্ঠানের পাচার ৮০০ কোটি টাকা
** পাচারের ৪৫ কোটি টাকার ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ
** ১৩৩ কোটি টাকা পাচার, ইমরান গ্রেফতার
** ছেলের টিউশন ফি’র নামে ৫০০ কোটি টাকা পাচার
** ‘ট্যাক্স এক্সপার্ট’র সহায়তায় পাচারের অর্থে আদায় হবে কর
** পাচার টাকা উদ্ধারে কাজ করেবে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান

