তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালন কার্যক্রম যাচাইয়ের অংশ হিসেবে কারখানা ও প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কর্মকর্তারা। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সম্প্রতি সিমেন্ট খাতের আরামিট সিমেন্ট লিমিটেড এবং বস্ত্র খাতের নূরানী ডায়িং অ্যান্ড সোয়েটার লিমিটেডের কারখানা পরিদর্শন করা হয়। তবে পরিদর্শনের সময় দুই প্রতিষ্ঠানেই উৎপাদন বন্ধ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গতকাল পরিদর্শিত হয় আরামিট সিমেন্ট এবং তার আগের দিন নূরানী ডায়িংয়ের কারখানা। বিষয়টি ডিএসই সূত্রে জানা গেছে।
১৯৯৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় আরামিট সিমেন্ট লিমিটেড। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আরামিট সিমেন্টের পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার, যার মধ্যে ৪৫ দশমিক ৯২ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে, ৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এবং বাকি ৪৪ দশমিক ২৯ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দখলে।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) আরামিট সিমেন্টের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫ টাকা ৯৬ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ১২ টাকা ১৪ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ৮১ পয়সায়। আর সর্বশেষ ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৩ টাকা ৮০ পয়সায়।
২০১৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় নূরানী ডায়িং অ্যান্ড সোয়েটার লিমিটেড। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১৫০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১২২ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১২ কোটি ২৬ লাখ ২৫ হাজার ৩০টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৩০ দশমিক ৯৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৭ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ৫১ দশমিক ৭৯ শতাংশ শেয়ার।
নূরানী ডায়িং অ্যান্ড সোয়েটার লিমিটেড টানা চার বছর ধরে নিরীক্ষিত কিংবা অনিরীক্ষিত কোনো আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে না। কোম্পানিটির সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০-২১ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৯৫ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ৪২ পয়সা। ২০১৯-২০ হিসাব বছরে সর্বশেষ ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এরপর থেকে আর কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি।
গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) নূরানী ডায়িংয়ের শেয়ার সর্বশেষ ৩ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়। গত এক বছরে শেয়ারটির মূল্য ২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ৬ টাকা ৬০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।
