আমদানি-রপ্তানিতে সংকট, ঘুষ-বাণিজ্যে রমরমা

বেনাপোল স্থলবন্দর

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল শার্শা উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থিত। বেনাপোল গ্রামের নিজস্ব স্থলবন্দর গ্রামের কেন্দ্র থেকে এক কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বে। ছোটআঁচড়া ও বড়আঁচড়া গ্রামে অবস্থান করছে বেনাপোল স্থলবন্দর। এখানে বিজিবি ক্যাম্প রয়েছে বড়আঁচড়ায়, চেকপোস্ট আছে সাদীপুর গ্রামে, আর কাস্টম হাউজ অবস্থিত ছোটআঁচড়া মৌজায়। বেনাপোল কাস্টম হাউজের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালে প্রথম চেকপোস্ট উদ্বোধন করা হয়। সেই সময় সীমান্ত অতিক্রম করতেন খুব কম মানুষ, যাদের অধিকাংশই স্থানীয় বাসিন্দা ছিলেন।

বর্তমানে বেনাপোল একটি আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট হিসেবে কাজ করছে এবং বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার যাত্রী এই চেকপোস্ট ব্যবহার করে। ২০০০ সালে এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ কাস্টম হাউজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে ধীরে ধীরে বন্দরটি আধুনিকায়ন করা হয়। দুদেশের মধ্যে আমদানি ও রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এটি পরে পূর্ণাঙ্গ কমিশনারেটে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে বেনাপোল কাস্টম হাউজ অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর কাস্টম হাউজ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। এটি কেবল রাজস্ব আদায়ই নয়, বরং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ, পণ্য যাচাই এবং আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য সহজীকরণের দায়িত্বও পালন করে। এই বন্দর রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ‘কী পয়েন্ট ইন্সটলেশন’ (কেপিআই)-এর অন্তর্ভুক্ত।

রাজস্ব বেড়েছে, কমছে আমদানি-রপ্তানি

দূরত্ব কম এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে স্থলপথে বাংলাদেশি বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানি বেনাপোল বন্দর দিয়ে হয়ে থাকে। ৮০-এর দশকেও এই বন্দর দিয়ে শতকোটি টাকার রাজস্ব আয় হতো, যা কালের সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বছরে পণ্য আমদানির পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা, যার মাধ্যমে সরকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টম হাউজের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তবে ৭ হাজার ২১.৫১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩১৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা বেশি এবং শতকরা ৪.৭২ শতাংশের সমান। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশাসনিক কঠোরতা এবং বিভিন্ন বাহিনীর তৎপরতার কারণে বন্দর ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনীহা দেখা দিয়েছে। শুল্ক আরোপ নিয়ে কাস্টমসের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝিও রয়েছে, আবার কেউ কেউ ‘বিশেষ সুবিধা’ না পাওয়ায় অন্য বন্দরের দিকে চলে গেছেন।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ পথে যাতায়াত করেছেন ১১ লাখ ৯০ হাজার ৮২১ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী। এর মধ্যে ভারতে গেছেন ৬ লাখ ৬ হাজার ৪১০ জন। আর ফিরেছেন ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৪১১ জন। এ থেকে সরকারের আয় হয়েছে প্রায় ১১০ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ রুটে যাতায়াত করেছেন ২২ লাখ ৫ হাজার ৪৭৮ জন। রাজস্ব এসেছিল প্রায় ২০০ কোটি টাকা। অর্থাত্ এক বছরে যাত্রী কমেছে ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৬৫৭ জন। আর রাজস্ব কমেছে ৯০ কোটি। অন্যদিকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ২১ লাখ ৩০ হাজার ২২৮ মেট্রিক টন পণ্য। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে দাঁড়ায় ২০ লাখ ৫৬ হাজার ২৮১ মেট্রিক টনে। গেল বছরে আমদানি কমেছে ৭৩ হাজার ৯৪৭ মেট্রিক টন। একই সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭২ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার ৭৫০.১৪ মেট্রিক টনে।

খাদ্যপণ্যে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের থেকে চালের আমদানির পরিমাণ বাড়লেও গম, ডাল, পেঁয়াজ ও মরিচসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিতে হ্রাস দেখা গেছে। এর ফলে খাদ্যদ্রব্য জাতীয় ভোগ্যপণ্যের বাণিজ্য ঘাটতি ৭৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকা, রপ্তানি মূল্য বৃদ্ধি এবং কঠোর শর্তাবলী এই পরিস্থিতির মূল কারণ। এছাড়া, ভারতের সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৮টি ভোগ্যপণ্যের আমদানিতে কোটা চুক্তি তিন বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি। দেশে হঠাৎ বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ, রপ্তানি মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি কঠোর শর্ত আরোপের কারণে বাণিজ্য ঘাটতি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরবরাহ ঘাটতির সুযোগ নিয়ে অসৎ ব্যবসায়ীরা মূল্য বৃদ্ধি করছে, যার ভোগান্তি ভুগছে নিম্নআয়ের জনগণকে। এই সমস্যা সমাধানে ২০২২ সালের ২২-২৩ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকে কোটা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়। এতে ভারতের কাছে বার্ষিক ৪৫ লাখ টন গম, ২০ লাখ টন চাল, ৭ লাখ টন পেঁয়াজ, ১৫ লাখ টন চিনি, দেড় লাখ টন আদা, ৩০ হাজার টন ডাল ও ১০ হাজার টন রসুনের আমদানি অনুরোধ করা হয়। তবে চুক্তি কার্যকর না হওয়ায় খাদ্যদ্রব্য আমদানিতে প্রতিবছর ঘাটতি বাড়ছে।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, সরকার পরিবর্তন আর আমদানি জটিলতায় বেনাপোল বন্দরে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। রেলে রপ্তানি পণ্য পরিবহনের নির্দেশ থাকলেও বেনাপোল দিয়ে আজ পর্যন্ত তা চালু হয়নি। রেল স্টেশনে নির্মাণ হয়নি কোনো ইয়ার্ড। নানা প্রতিবন্ধকতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত থেকে মাত্র ১,২৯৬টি ওয়াগনে আমদানি হয়েছে ১২ হাজার মোট্রিক টন পণ্য।

নানা সমস্যায় জর্জরিত

আমদানি-রপ্তানির প্রধান সূতিকাগার হলেও সমস্যার রাহুমুুক্ত হতে কোনোদিনই পারেনি বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ। ১০২.৯৯ একর আয়তনের বন্দরটির পণ্য ধারণক্ষমতা ৫৫ হাজার মেট্রিক টন। ৩৩টি ওয়্যারহাউজ, ৫টি ইয়ার্ড ছাড়াও একটি ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড, ২ হাজার ট্রাক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি ভারতীয় ট্রাক টার্মিনাল, সমপরিমাণ ধারণক্ষমতার একটি রপ্তানি টার্মিনাল, টিটিবি-তে প্রায় সাড়ে ৩০০ চেসিস রাখার ব্যবস্থা, ৭টি ওয়েব্রিজ স্কেল রয়েছে বন্দরে। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৪৫০ পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে আসলেও সেই তুলনায় শেডের স্বল্পতা রয়েছে। আবার যেসব শেড রয়েছে, তার বেশির ভাগই জরাজীর্ণ, ব্যবহার অনুপযোগী। নির্দিষ্ট পণ্য নির্দিষ্ট শেডে রাখার নিয়ম থাকলেও একই শেডে সবধরনের মালামাল রাখা হয় বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। আর সারা বছরই ঠিকাদারের গাফিলতিতে ক্রেন, ফর্কলিফট নষ্ট থাকে বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।

বন্দর অভ্যন্তর যেন অনিয়মের ডিপো

ভারত থেকে বন্দর অভ্যন্তরে পণ্য পৌঁছানোর পর শুরু হয় সব পক্ষের সব রকমের লেনদেন। দিনের শুরুতে কার্গো শাখায় আমদানির এন্ট্রি পয়েন্টে কাজ শুরু হয় ধীরগতি দিয়ে। যে পয়েন্ট দিয়ে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করে, সেখানে কম্পিউটার এন্ট্রির জন্য নেই একজনও অপারেটর। দুজন সিপাহির একজন কোনোরকম পারলেও আরেক জন পারেন না। এসব নিয়ে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন থেকে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে জানান সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান। কার্গো শাখা থেকে বন্দরের পোস্টিং শাখায় মাল পৌঁছালেও দাঁড়িয়ে থাকতে হয় শেড খোলার অপেক্ষায়। সকাল সাড়ে ১০টা-১১টার আগে শেড খোলাই হয় না। এখানে মালামাল লোড-আনলোডের জন্য শেড ইনচার্জকে ট্রাকপ্রতি ১০০-২০০ টাকা দিতে হতো। সাম্প্রতিককালে এই রেট সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। টাকা না দিলে মাল নামানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়।

ঘুষের নাম স্পিডমানি

বেনাপোল বন্দর আমদানি-রপ্তানিতে অনিয়মের চিত্র প্রকাশ করে। আমদানি কার্যক্রমে একটি সময় কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনৈতিক লেনদেন করতেন স্থানীয় কিছু বেসরকারি ব্যক্তি, যারা ‘এনজিও’ নামে পরিচিত। গত ৬ অক্টোবর দুদকের অভিযানে দুজন ‘এনজিও’ এবং একজন নারী কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘুষসহ গ্রেফতার করা হয়। এরপর ১৪০ জন ‘এনজিও’ নামধারী ঘুষ সংগ্রাহক বরখাস্ত করা হয়। তবে এক সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে আলাদা হয়ে আসে। এআরও, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা হাতে হাতে ‘স্পিডমানি’ ঘুষ নেওয়া শুরু করেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, টাকা না দিলে টেবিল থেকে একটি ফাইলও নড়ে না। শুরুর দিকে ‘মেনিফেস্ট বিল অব এন্ট্রির’ জন্য কাস্টমস ক্লার্ককে ফাইলপ্রতি ৫০ টাকা দিতে হতো। ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভাররা কার্গো শাখায় মেনিফেস্টের কপি পৌঁছে দিলেও সবসময় তা হয় না। মেনিফেস্ট না থাকলে বিল অব এন্ট্রির জন্য অতিরিক্ত ২০০ টাকা দিতে হয়। পণ্য পরীক্ষণ শাখায় লাগামহীন বাণিজ্য চলে; এআরও’র ফাইলপ্রতি সাধারণ মূল্য ৫০০ টাকা নির্ধারিত। রাজস্ব কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনাররা ১ হাজার টাকা করে চার্জ নেন, যা সিপাহির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা মাসোহারা ২০০-৩০০ টাকা পরিমাণে দেন। পরীক্ষণ শাখায় আমদানি পণ্যের ওজন বা এইচএস কোড ঠিক আছে কি না তা খুঁজে বের করা হয়। এ ধরনের বিচ্যুতির সুযোগে এআরও, আরও এবং সহকারী কমিশনার মিলিয়ে লাখখানেক টাকা ঘুষ হিসেবে নেন।

পরীক্ষণ শাখা ঘুরে অ্যাসেসমেন্ট বা শুল্কায়ন শাখায় এলে এআরও-আরও-এর প্রত্যেককে দিতে হয় সর্বনিম্ন ৫ হাজার করে টাকা। মোটরপার্টস, কসমেটিকস, ফুড সাপ্লিমেন্টের মতো উচ্চশুল্কের কিছু পণ্যে ২০-৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেগে যায় ফাইল ছাড়াতে। অভিন্ন খরচের জোগান দিতে হয় সহকারী কমিশনারের টেবিলে। এই ডেস্কে ঝামেলাযুক্ত ফাইলের রেট ওঠে লাখ টাকায়ও। এরপরের ধাপে ডেপুটি কমিশনারের জন্য ৫ হাজার সাধারণ চার্জ থেকে আনলিমিটেড এবং জয়েন্ট কমিশনারের টেবিলে ১০ হাজার থেকে আনলিমিটেড স্পিডমানির প্রচলন রয়েছে। যদিও বর্তমানে পদ দুটো শূন্য রয়েছে। ১৫ হাজার থেকে শুরু করে অনলিমিটেড টাকা ব্যয় হয় অতিরিক্ত কমিশনার পর্যায়ে। তবে বর্তমানে এই ডেস্কে ফাইল টাকা ছাড়াই মুক্তি পাচ্ছে বলে আমদানিকারকরা জানান। আর চূড়ান্ত পর্যায়ে কমিশনার টেবিলে দিনের শত শত ফাইল স্বাভাবিকভাবে মুক্তি পেলেও আটকে যায় ১০-২০টি ফাইল। এগুলো ছাড়াতে হয় বিশেষ রফা। তবে বর্তমানে এই টেবিলও স্পিডমানিমুক্ত রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

বৈধপথে অবৈধ কারবার

বেনাপোল বন্দরে ভারত থেকে বৈধভাবে আসে বেশকিছু বন্ডেড পণ্য। আমদানিকৃত এসব পণ্য ডেনিম, ফেব্রিক্স, তুলার মতো নামমাত্র শুল্ক বা শুল্কমুক্ত সুবিধায় আসে। গুরুতর অভিযোগ হলো, এসব বন্ডেড পণ্যের ট্রাকে আসে শাড়ি, থ্রিপিস ও কসমেটিকস সামগ্রী। কিন্তু ভারতীয় ট্রাক থেকে আনলোড হয়ে বাংলাদেশের ট্রাকে লোড হওয়ার আগেই চোরাই সামগ্রী অন্য ট্রাকে ওঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের বড় একটা অংশ একাজে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ। বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. তবিবুর রহমান বলেন, ‘দেড় বছর হলো আমি ৯২৫-এর দায়িত্বে আছি। এখানে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে ৮৯১-এ এমন কয়েকটা ঘটনার কথা শুনেছি।’ তবে ৮৯১-এর সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু বলেন, ‘শ্রমিকের কাজ লোডিং-আনলোডিং করা। কিন্তু অন্য সব কাজ প্রশাসনের। সেখানে কী হয়, আমরা বলতে পারব না।’

অগ্নিঝুঁকিতে পণ্যাগার, নিরাপত্তা সুপারিশ উপেক্ষিত

বেনাপোল বন্দর, যা সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ‘কি পয়েন্ট ইন্সটলেশন’ (কেপিআই) হিসেবে স্বীকৃত, তার অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ নয়। ফায়ার সার্ভিস বারবার বন্দরের কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছে। পরিদর্শনের সময় ফায়ার সার্ভিস নিরাপত্তা ঝুঁকি চিহ্নিত করে জানিয়েছে, বন্দরের অগ্নি নিরাপত্তা অপর্যাপ্ত। জেলার কেপিআইভুক্ত ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০টিতে আগুনের ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক সুপারিশমালা দেওয়া হয়েছে। ১৯৯৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বেনাপোলে ৬টি বড় অগ্নিকান্ডে ৯৬০ কোটি টাকার পণ্য পুড়ে গেছে। এছাড়া মাঝেমধ্যে ছোটখাট অগ্নিকান্ডও ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করছে। একবছর আগে বেনাপোলের জন্য ১১টি সুপারিশমালা দেওয়া হলেও, অধিকাংশই এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।

** বেনাপোলে ২.৫০ কোটি টাকার পণ্য জব্দে তদন্ত কমিটি
** বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব ফাঁকি, তদন্তে এনবিআর-মন্ত্রণালয়
** কসমেটিকস আমদানিতে জালিয়াতি, চলছে রাজস্ব ফাঁকি
** বেনাপোলে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসছে ভারতীয় পোশাক
** ঘুস নিয়ে শুল্ক ছাড়াই পণ্য ছাড়, দুদকের অভিযান
** বেনাপোল বন্দরে ৬৭৪ ম্যানিফেস্টের তথ্যে অনিয়ম
** অতিরিক্ত শুল্ক ,বেনাপোল দিয়ে মাছ আমদানি বন্ধ
** এক বছরে বেনাপোলে যাত্রী চলাচল অর্ধেকে
** বেনাপোলের ২৫ কোটি টাকার চুরির কাপড় উদ্ধার
** বেনাপোলে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসছে ভারতীয় পোশাক
** চাকার স্লাবে শুল্ক, বেনাপোলে রাজস্ব কমছে
** বেনাপোল দিয়ে দুইদিনে ফল এসেছে ১২০ ট্রাক
** বেনাপোল বন্দর-কাস্টমসে সবই অনিয়ম
** বেনাপোলে শত কোটি টাকার হোমিও ওষুধ জব্দ
** ভারতের সঙ্গে ৩ স্থলবন্দর বন্ধ, ১টি স্থগিতের সিদ্ধান্ত
** হিলি স্থলবন্দরের অনিয়ম খতিয়ে দেখার নির্দেশ
** ‘অ্যাসাইকুডায় আস্থাহীনতা, বিকল্প সফটওয়্যার চালু হচ্ছে’
** বাংলাদেশি কিছু পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিল ভারত
** ৬৫ টাকায় পাঞ্জাবি, ৪০ টাকায় থ্রি-পিস আমদানি
** চোরাই পথে আসে ৫৫ হাজার কোটি টাকার কাপড়
** ঘুস নিয়ে শুল্ক ছাড়াই পণ্য ছাড়, দুদকের অভিযান
** ‘প্রভাবশালীকে’ বাঁচাতে ঘুসের টাকাসহ আটক মুকুলকে অবসর!
** বন্দরের দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত, শাস্তি পায়নি কাস্টমস কর্মকর্তারা!
** কসমেটিকস আমদানিতে জালিয়াতি, চলছে রাজস্ব ফাঁকি
** রাজস্ব কর্মকর্তার ২৩ লাখ টাকা জব্দ, টাকার উৎস নেই
** কেমিক্যাল ঘোষণায় ফেনসিডিল ও বিদেশি ঔষধ আমদানি