রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনকালে হাসপাতাল ভবনের ভেতরে একটি বেকারি কারখানার সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীরা ওই বেকারিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়, এতে অন্তত তিনজন আহত হন এবং ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। শনিবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, এর আগে গত বুধবার সকালে হাসপাতালটিতে এক থেকে তিন দিন বয়সী ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ প্রেক্ষাপটে শনিবার বিকেলে হাসপাতালটি পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং তিনি জানান, বেকারি থেকে নির্গত গ্যাস নবজাতকদের ক্ষতির কারণ হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শন ও বেকারির সন্ধান পাওয়ার খবর পেয়ে হাসপাতালটিতে যান গণমাধ্যমকর্মীরা। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিদর্শন শেষে চলে যাওয়ার পরপরই হাসপাতালটির সবগুলো প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয় আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমকর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে হাসপাতালটির নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেন। বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান তাঁরা। পরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, বেকারি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিলগালা করে দিয়ে গেছেন। এখন আর কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া সম্ভব ন।
এরপরও গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতালের নিচতলায় অবস্থান করেন এবং বেকারিতে প্রবেশের চেষ্টা চালান। এ সময় সেখানে পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা উপস্থিত হন। তাঁদের উপস্থিতিতেই হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে ধাওয়া দিয়ে তাঁদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং কয়েকজনকে মারধর করা হয়। এতে টাইমস অব বাংলাদেশের নিজস্ব প্রতিবেদক কাজী জাহিদ ও দীপ্ত টিভির এক ক্যামেরাপারসনসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া বৈশাখী টিভির একটি ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।
এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে হাসপাতালটির পরিচালক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘সাংবাদিকেরা হাসপাতালের নিচতলায় ভিড় করেছিলেন। এতে রোগীদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছিল। চারজন রোগী হাসপাতালে প্রবেশ করতে না পেরে ফিরে যান। এ অবস্থায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সাংবাদিকদের সেখান থেকে সরে যেতে বললে একজন সাংবাদিক তাঁদের ঝাড়ুদার বলে অসম্মান করেন। এতে তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের ধাওয়া দিয়েছেন। তবে কাউকে মারধর করা হয়নি।’
এর আগে বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রথমে হাসপাতালটির পঞ্চম তলায় নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (এনআইসিইউ) পরিদর্শন করেন এবং সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি কলেজ ভবনের অষ্টম তলায় অবস্থিত একটি বেকারি ঘুরে দেখেন। এরপর দ্বিতীয় তলার পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে যান, যেখানে ছয় নবজাতক ভর্তি ছিল। ওয়ার্ড পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। উল্লেখ্য, গত বুধবার সকালে হাসপাতালটির ডেলিভারির পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা এক থেকে তিন দিন বয়সী ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শনিবার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সময় বাড়ানো হয়েছে।
প্রাণ হারানো এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান গত বুধবার রাতে রাজধানীর রমনা থানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটির বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে কাউকে আটক করা হয়নি।
