বিশ্বের ১১৯টি শহরের মধ্যে সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালেই বায়ুদূষণের শীর্ষে অবস্থান করছে ঢাকা। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকার বায়ুর মান ছিল ৩৩২, যা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ। এটি বায়ুদূষণের সর্বোচ্চ স্তর। নগরী ও আশপাশের পাঁচটি স্থানে বায়ুর মান অস্বাভাবিকভাবে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। তবে আজ খুলনার বায়ুর মান ঢাকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ, ৫৩৭। রাজধানী সংলগ্ন একটি স্থানে দূষণের মান ৬০০-এর ওপরে পৌঁছেছে।
বায়ুদূষণের এ পরিস্থিতি তুলে ধরেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। প্রতিষ্ঠানটি বায়ুদূষণের অবস্থা নিয়মিত তুলে ধরে। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে। বায়ুদূষণের মান ২০০-এর বেশি হলে সেটিকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয়; আর ৩০০ হয়ে গেলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে গণ্য করা হয়।
ঢাকার বায়ুদূষণ ভয়াবহ হারে বেড়েই চলেছে। বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে বায়ুদূষণের কারণে দেশে প্রায় দেড় লাখ মানুষ মারা গেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশীয় উৎপাদনেও প্রায় ৮ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে। অতীতের বিভিন্ন সরকারের সময় নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও তেমন ফল পাওয়া যায়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও কিছু উদ্যোগের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ঢাকা বা দেশের অন্য কোনো স্থানে দূষণের মানের উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি। নতুন সরকার এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারে, তা এখন প্রশ্ন হিসেবে রয়ে গেছে।
রাজধানী ও এর সংলগ্ন স্থানে আজ ভয়াবহ দূষণ। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দূষণ হেমায়েতপুরে, বায়ুর মান ৬৬৭। অন্য চার স্থানের মধ্যে আছে নিকুঞ্জের এএসএল সিস্টেমস লিমিটেড (৪২৯), সাগুফতা (৩৪৮), গুলশানের বে’জ এইজ ওয়াটার (৩৩৪) ও দক্ষিণ পল্লবী (৩৩২)। দেশের সর্বত্রই বায়ুদূষণ বাড়ছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে আজকাল ঢাকার বাইরের অন্যান্য এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা অনেক বেশি থাকছে। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে যেসব কার্যক্রম আছে, তা মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক। তবে এসব কার্যক্রমের তেমন কোনো ফল নেই।
