আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) অনুযায়ী আরোপিত শুল্ক আদায় বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থা ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামীকাল মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিট (ইএসটি) থেকে এসব শুল্ক আর আদায় করা হবে না।
ওই সময় থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগে আইইইপিএ-র অধীনে যে শুল্ক দিয়েছিলেন সে সংশ্লিষ্ট সব শুল্ক কোড নিস্ক্রিয় হয়ে যাবে, শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগ তাদের কার্গো সিস্টেমস মেসেজিং সার্ভিসে (সিএসএমএস) পণ্য আমদানি-রপ্তানির দায়িত্বে থাকা কোম্পানিগুলোকে এ বার্তাই দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ক্ষিপ্ত ট্রাম্প আরেক আইনে নতুন ১৫% বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করে বসেছেন। মঙ্গলবার থেকেই নতুন এ শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পরও কয়েক দিন ধরে কেন শুল্ক বেআইনিভাবে নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। এতদিন যারা এই শুল্ক পরিশোধ করেছেন, তাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কি না, সেটিও বলা হয়নি। তবে সরকারি বার্তায় বলা হয়েছে, আইইইপিএ-এর অধীনে শুল্ক নেওয়া বন্ধ হলেও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ধারা ২৩২ এবং অন্যায় বাণিজ্য চর্চা সংক্রান্ত ধারা ৩০১-এর অধীনে আরোপিত অন্যান্য শুল্ক আদায়ে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত নির্দেশনা দেওয়া হবে।
শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের রাজস্ব আয়ের ভেতর থেকে ১৭ হাজার ৫০০ কোটির বেশি অর্থ ফেরত দেওয়া লাগতে পারে বলে ধারণা দিয়েছিল রয়টার্স। তবে সর্বোচ্চ আদালত অর্থ ফেরতের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীদের ফের আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনকে দেওয়া শুল্কের অর্থ ফেরত পেতে তাদের কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে।
** ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট
** সব দেশের ওপর নতুন ১০% শুল্কারোপ করলেন ট্রাম্প
