‘আওয়ামী সরকার দুদককে ওয়াশিং মেশিনের মত ব্যবহার করেছে’

বাণিজ্য উপদেষ্টা

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) ‘ওয়াশিং মেশিনের’ মত ব্যবহার করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেছেন, চরম পর্যায়ের অরাজকতা ছিল সবখানে। এতটাই অরাজকতা ও অনাচারে ভরে গিয়েছিল যে, সরকার পতনের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব ও সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত পর্যন্ত পালিয়ে গেছেন। আগের সরকার দুর্নীতি দমন কমিশনকে ওয়াশিং মেশিনের মত ব্যবহার করেছে। এখন আর সেই দিন নেই। কেউ দুর্নীতি করতে চাইলেও সহজ হবে না। দুর্নীতি করা কঠিন হবে। এজন্য দেখছেন কেউ (সরকারি আমলা) ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ সূচক প্রকাশের সময় বাণিজ্য উপদেষ্টা দুর্নীতির বিষয়গুলো তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে ব্যবসার পরিবেশ ও নতুন বিনিয়োগের জন্য সরকারি দপ্তরে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতিকে বাধা হিসেবে উল্লেখ করে ব্যবসায়ী নেতারা তাদের বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল ইসলাম পারভেজ বলেন, আমলারা কাজ করছেন না। তারা ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না, বলছেন যারা কাজ করেছিল তারা এখন জেলে। জেলে যেতে চাই না।

গুলশানের পুলিশ প্লাজায় নিজস্ব কার্যালয়ে মহানগর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) যৌথভাবে ‘বাংলাদেশ বিজনেস ক্লাইমেট ইনডেক্স (বিবিএক্স) ২০২৪-২৫’ এর চতুর্থ সংস্করণ প্রকাশ করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বশিরউদ্দীন বলেন, আমার তিন মন্ত্রণালয়ের যেকোনো স্থানে যদি দুর্নীতি বা ঘুষ, যা আপনি ইনফরমাল ডিল বলছেন, ঘটে, তাহলে আমাকে জানাবেন। আমি সমাধান করে দেব।

যদি বলতে পারেন যে দুর্নীতি আছে, তাহলে আপনি জানেন কোথায় আছে, আসুন এবং আমাকে বলুন, আমি তা মোকাবিলা করব। সবখানে দুর্নীতিমুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের সম্মিলিত চেষ্টা থাকতে হবে এজন্য। সরকারি দপ্তরে যে সমস্যা হয় না, তা না। এজন্য আমরা একটা সংলাপ করতে পারি। আপনাদের কথা দিচ্ছি, সমস্যা বললে তা সমাধান হবে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সবাইকে সমানভাবে ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ার কথা জানিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আগের সরকারের সময়ে সবখানে একটি ক্রনিক গোষ্ঠী হলো, লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড হলো না। কয়েকটি গোষ্ঠী কিছু কিছু খাতে একচেটিয়া ব্যবসা করল, এটা তো সরকারি নীতি হতে পারে না।

আওয়ামী লীগ সরকারের পরে অর্থনীতি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে ছয় বিলিয়ন ডলার বিদেশি দায় পরিশোধ করা হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মুদ্রানীতি সঠিক পথে ফিরিয়ে আনায় এখন বৈদেশিক বাণিজ্যে সমস্যা নেই। ডলারের পর্যাপ্ততা রয়েছে। তবে অনাচারে ভরা অর্থনীতি হঠাৎ করেই পুরোপুরি ঠিক হবে না। একটি জাতি ঋণ নির্ভর হয়ে গেলে তা টেকসই হয় না। আমরা চেষ্টা করছি, এবং এই চিত্র আমাদের দেখাচ্ছে সংস্কারের কতটা জরুরি। ব্যাংক ও অবকাঠামো খাতে যে অপরাধ হয়েছে, তা আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই। অকল্পনীয় দুর্নীতি হয়েছে। অনাচারের চিত্র ভুলে যাওয়া যাবে না; আমাদের মনে রাখা উচিত। আগামীতে সবাই মিলে সুশাসনের জন্য কাজ করতে হবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসায় আগামী বছরের শুরুতে সুদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাসের আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা।

বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী হক চৌধুরী বলেন, সরকার ও আমরা দুই না। তারা ও আমরা বলে কোনো কথা থাকতে পারে না। আমরা বাংলাদেশি, এটাই আমাদের পরিচয় হওয়া উচিত। শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি কথা বললেই হবে না, নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে কমপ্লাইন্স কি-না, সেখানেও নজর দিতে হবে। ঘুষ কেনো চাইবে তারা (সরকারি দপ্তর)। আমাদের প্রতিষ্ঠানের সমস্যা কোথায়, সেটাও দেখতে হবে। নইলে তো প্রতিষ্ঠান টিকবে না।

বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করা ১৫০টি জাপানি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করতে গিয়ে যেসব চ্যালেঞ্জ দেখছে তা তুলে ধরেন জাপানি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান জেট্রোর বাংলাদেশ কান্ট্রি ম্যানেজার কাজুইকি কাতওকা। তিনি বলেন, চার ধরনের সমস্যা চিহ্নিত করেছেন ব্যবসায়ীরা; যেগুলোর মধ্যে রয়েছে দুর্বোধ্য কর ব্যবস্থা। কর দেওয়ার বিষয়গুলো স্পষ্ট না। আমাদের কাছে মনে হয়, করহার সরকারের কাছেও পরিষ্কার না। হঠাৎ করে অনেক পুরনো রিটার্ন দেখতে চিঠি দেয় এনবিআর, এটা একটা সমস্যা। প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতার অভাব ও সব নির্দেশনা বাংলায় লেখা থাকায় আমাদের জন্য বুঝতে সময়ের প্রয়োজন হয়।

বিবিএক্স ব্যবসার পরিবেশের একটি সূচক প্রকাশ করে, যা বিনিয়োগে ভূমির প্রাপ্যতা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্যের প্রাপ্যতা, অবকাঠামো, শ্রম পরিবেশ, বিরোধ নিষ্পত্তি, বাণিজ্য সুবিধা, কর প্রদান, প্রযুক্তি গ্রহণ, অর্থায়ন প্রাপ্তি এবং পরিবেশগত নিয়মসহ মোট ১১টি সূচককে অন্তর্ভুক্ত করে। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় পিইবি চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, এক বছর স্বল্প মাত্রায় অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে বিভিন্ন খাতে, যেখানে অনেক সম্ভাবনা ছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে ব্যবসায়িক পরিবেশ সামান্য স্থিতিশীলতার লক্ষণ দেখিয়েছে। ওই অর্থবছরে বিবিএক্স স্কোর ছিল ৫৯.৬৯ পয়েন্ট, যা আগের অর্থবছরের ৫৮.৭৫ পয়েন্টের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিবিএক্স-৪ সংস্কার প্রকাশে সহযোগিতা করা ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাসের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক কমিশনার বেন কারসন বলেন, বাংলাদেশ এশিয়ার উদীয়মান দেশ। একটি শক্তিশালী অর্থনীতির দেশে পৌঁছাতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চায় অস্ট্রেলিয়া। এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, দীর্ঘমেয়াদী ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের জন্য অবকাঠামোগত বিষয়গুলো জরুরি। সরকারি সেবাগুলো যত অনলাইন ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বাইরে হবে তত স্বচ্ছতা থাকবে।

** সরকার ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায়নি: বাণিজ্য উপদেষ্টা
** কর ফাঁকি কমাতে চায় সরকার: বাণিজ্য উপদেষ্টা
** শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা
** গ্যাসের জন্য ২০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছি: বাণিজ্য উপদেষ্টা
** ‌‌‘তেলের দামে তারতম্য হলে সরকার সক্ষমতা ব্যবহার করবে’
** রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬৩.৫০ বিলিয়ন ডলার
** ‘যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই’
** ‘বাংলাদেশের শুল্ক কমার সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে’
** সমঝোতা আংশিক, আলোচনা অব্যাহত
** ‘বডি এনে চাকা-নাট বসিয়ে বলছি গাড়ি বানাচ্ছি’
** ‘১৬ বছরে দেশে প্রতারণামূলক বিনিয়োগ হয়েছে’
** সরকারি পরিসংখ্যান মারাত্মক ফ্যাসাদ তৈরি করছে
** পাঁচতলা বাড়ির মালিকও টিসিবির কার্ড পেয়েছিলেন
** ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিলে খরচ বেড়েছে ২০০০ কোটি টাকা
** বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের শূন্য শুল্কে আসবে ১০০ পণ্য
** ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে’
** ‘হাসিনা যাওয়ার পর রাসেলস ভাইপার সাপও চলে গেছে’
** ‘চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে’
** তাঁত শিল্পে শুল্ক সুবিধার অপব্যবহার, সংস্কারের আশ্বাস
** কর ব্যবস্থা ছাড়া সামাজিক ন্যায়বিচার সম্ভব নয়
** ‘৫০% ভ্যাট-ট্যাক্স বাড়িয়ে দেন, দেশ ভালো হয়ে যাবে’
** করের চাপ কমানোর আহ্বান ব্যবসায়ীদের

This will close in 5 seconds