শেয়ারবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও)তে বিনিয়োগকারীদের জন্য আবারও লটারি ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এবার থেকে আইপিওতে আসা কোম্পানির শেয়ারের বরাদ্দ লটারির মাধ্যমে করা হবে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আইপিওতে আগের মতো লটারি প্রথা পুনঃস্থাপন করেছে। তথ্যটি বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সংশোধিত পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত বিধি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এর আগে আইপিওতে লটারি প্রথা বাতিল করা হয়েছিল এবং শেয়ার বরাদ্দ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও জমা অর্থের অনুপাত অনুযায়ী করা হতো। সেই সময় আইপিওতে শেয়ার আবেদন করতে হলে বিনিয়োগকারীদের সেকেন্ডারি বাজারে ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইপিওর সংশোধিত বিধির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক এম হাছান মাহমুদ, পরিচালক মো. আবুল কালাম এবং অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো. লুৎফুল কবির প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সংশোধিত আইপিও বিধি অনুযায়ী ৩০ কোটি টাকার কম পরিশোধিত মূলধনের কোনো কোম্পানি আইপিওতে আসতে পারবে না। আইপিওতে আসা কোম্পানিগুলোকে তার মূলধনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়তে হবে। আইপিও–পরবর্তী কোম্পানির মূলধন হতে হবে ৫০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ৩০ কোটি টাকার মূলধনের কোনো কোম্পানি বাজারে আসতে চাইলে ওই কোম্পানিকে আইপিওতে ন্যূনতম ২০ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়তে হবে। তবে ভালো মৌলভিত্তির বহুজাতিক কোম্পানি ও বড় কোম্পানির ক্ষেত্রে এই শর্ত কিছুটা শিথিল থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শেয়ারবাজারে আইপিওতে নতুন কোম্পানি আনার ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জকে অধিকতর ক্ষমতাশালী করা হয়েছে। আইপিওতে আসতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর প্রসপেক্টাস বা বিবরণীর ওপর বস্তুনিষ্ঠ যেকোনো মতামত দিতে পারবে স্টক এক্সচেঞ্জ। এমনকি কোম্পানির কারখানা ও কার্যালয় পরিদর্শনেরও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জকে। স্টক এক্সচেঞ্জ কোনো কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত না করার বিষয়ে মতামত দিলে ওই কোম্পানি সেই মতামতের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিতে আপিলের সুযোগ পাবেন।
