অস্তিত্বহীন সিজন্স ড্রেসেস’র বন্ড লাইসেন্স বাতিল

প্রতিষ্ঠান বন্ধ। সেই বন্ধ প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ২৪৫ মেট্রিক টন কাপড় বন্ড সুবিধায় আমদানি হয়েছে। মূলত সেই কাপড় খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়ার হতো। কারণ প্রতিষ্ঠানটি এর আগেও বন্ড সুবিধার সব কাপড় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এর আগেও প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযানে গিয়ে কোনো বন্ডের কাপড় পায়নি বন্ড কর্মকর্তারা। জালিয়াতি, বন্ডের কাপড় খোলাবাজারে বিক্রি ও বিক্রির চেষ্টা এবং শুল্ককর ফাঁকি প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বন্ড লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি হলো গাজীপুর টঙ্গীর সাতাইশ খা পাড়া রোডের এস কে টাওয়ারে অবস্থিত মেসার্স সিজন্স ড্রেসেস লিমিটেড। সম্প্রতি ঢাকা উত্তর কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট লাইসেন্স বাতিল করেছে। এনবিআর সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

এনবিআর সূত্রমতে, গাজীপুর টঙ্গীর সাতাইশ খা পাড়া রোডের এস কে টাওয়ারে অবস্থিত মেসার্স সিজন্স ড্রেসেস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৯ সালে বন্ড লাইসেন্স পেয়েছে। প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলেও বন্ড সুবিধায় কাপড় আমদানি হচ্ছে বলে বন্ড কমিশনারেটের কর্মকর্তারা গোপন সংবাদ পান। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি বন্ড কমিশনারেটের একটি প্রিভেন্টিভ টিম প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় দেখা যায়, বন্ড প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো মেশিনারিশজ নেই, নেই উৎপাদন এবং কোনো কাঁচামাল বা পণ্য নেই।

কর্মকর্তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সিজন্স ড্রেসেস লিমিটেডের নামে চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪৫ মেট্রিক টন কাপড় আমদানি হয়েছে। যার উপর প্রযোজ্য শুল্ককর প্রায় ১০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এফওসি বা ফ্রি অব কস্টে আমদানি করা এসব কাপড় তিনটি বিল অব এন্ট্রি ও ছয়টি বিল অব ল্যাডিং এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি খালাসের চেষ্টা করছে। বন্ড সুবিধার এই বিপুল পরিমাণ কাপড় খালাস হলে তা শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হতো বলে ধারণা করছেন বন্ড কর্মকর্তারা। বন্ড প্রতিষ্ঠান, মেশিনারিজ, উৎপাদন না থাকা প্রতিষ্ঠানটির জন্য আমদানি করা এই বিপুল পরিমাণ কাপড় খালাসের চেষ্টা করায় প্রতিষ্ঠানটির বিআইএন লক করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বন্ড লাইসেন্স বাতিলের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

অপরদিকে, বন্ড কমিশনারেটের অপর একটি প্রিভেন্টিভ টিম প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান পরিচালনা করেন। এমআইএস এর হিসাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর ও ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ দুইটি বিল অব এন্ট্রিতে ২৬ হাজার ৯৫৬ কেজি পলিস্টার ফেব্রিক্সস ও ১৭ হাজার কেজি ওভেন ফেবিক্সস আমদানি করেছে। এই কাপড় ওয়্যারহাউজে পায়নি কর্মকর্তারা। ওয়্যারহাউজে ৯৭ হাজার ৭০ গজ অন্য কাপড় পাওয়া গেছে। আমদানি করা এই কাপড় দিয়ে কোনো পোশাক তৈরির বিষয়ে প্রতিষ্ঠান কিছু জানাতে পারেনি। অর্থাৎ এই কাপড় খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

সূত্রমতে, দুইটি প্রিভেন্টিভ টিম বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগে প্রতিবেদন দেয়। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী কারণ দর্শানো নোটিশ ও বিচারাদেশ শেষে প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

** বন্ধ প্রতিষ্ঠানের ২৪৫ টন বন্ডের কাপড় খালাসের চেষ্টা
** নেত্রকোনা এক্সেসরিজের ৫ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি
** বন্ডের ৪৯২৭ টন কাপড়ের ৩৭৯৭ টন-ই বিক্রি করে দিয়েছে!
** ১৪৫ টন বন্ডের কাপড় গোডাউনে ঢুকেনি, সড়ক থেকে ‘হাওয়া’
** ‘বন্ডের পণ্য বাজারে বিক্রি করলেই লাইসেন্স বাতিল’
** টেরিবাজারে জাহাজ থেকে খালাস হয় বন্ডের কাঁচামাল!
** বন্ড দুর্নীতিতে বছরে ৫শ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি
** তিন গার্মেন্টস মালিকের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ
** নেত্রকোনা এক্সেসরিজের ৫ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি
** রপ্তানি না করেও পাচ্ছে প্রাপ্যতা-ইউপি, বিক্রি করে এলসি
** প্রাপ্যতা জালিয়াতি, এমডি-চেয়ারম্যানের নামে মামলা
** ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে মিলবে বন্ড সুবিধা
** ‘ট্রেজারি বন্ডের ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে
** বন্ড লাইসেন্স না থাকলেও কাঁচামাল আমদানির সুযোগ
** বন্ড অফিসে বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
** এইচএস কোডের চার ডিজিট মিল থাকলে খালাস করতে হবে
** এইচএস কোড ভিন্ন হলেও পণ্য খালাসে জটিলতা নেই
** এইচএস কোডের ভুলে ৪০০% জরিমানা, ব্যবসায়ীরা হয়রানি হচ্ছেন: ডিসিসিআই
** এইচএস কোড পাল্টে পণ্য খালাস নেয় বার্জার পেইন্টস
** বন্ড ছাড়াই কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেবে এনবিআর
** ১৪৫ টন বন্ডের কাপড় গোডাউনে ঢুকেনি, সড়ক থেকে ‘হাওয়া’
** কাঁচামাল আমদানিতে ছাড় দিতে চায় এনবিআর
** ‘প্রাপ্যতার সুযোগে’ বন্ডের এক্সেসরিজ খোলাবাজারে
** অনলাইনে মিলছে ‘বন্ড লাইসেন্স’
** তুলা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা
** ইপিজেডের বন্ড সুবিধার ১০৭ টন কাপড় চট্টগ্রামে আটক
** আনোয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের বন্ড ‍সুবিধার অপব্যবহার
** ‘বন্ডের পণ্য বাজারে বিক্রি করলেই লাইসেন্স বাতিল’
** ৩০১ টন বন্ডের কাঁচামাল গায়েব করেছে ‘জেএফকে ফ্যাশন’
** অনুমোদন পেলো ‘ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেট’