বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এনডিই)–এর চলমান কাজের বিল পরিশোধ বন্ধ করেছে সরকার। একই সঙ্গে গণপূর্ত অধিদপ্তর–এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম এবং সম্পন্ন কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের মাধ্যমে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে অর্থ সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর কর্নেল সামসুল আরেফিন নামের এক ব্যক্তির অভিযোগের পর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আলোচিত এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বর্তমানে কমপক্ষে এক হাজার কোটি টাকার বেশি কাজ চলমান রয়েছে। তবে অভিযোগকারী ব্যক্তির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কথা বলতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব মো. নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি।
কর্মকর্তারা জানান, মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের পর গত বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. নাজমুল আলম–এর স্বাক্ষরে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশে গণপূর্ত অধিদপ্তর–এর প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়নাধীন যেসব প্রকল্প ন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এনডিই)–এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেসব প্রকল্পের বিপরীতে সব ধরনের অর্থ পরিশোধ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর ফলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের আওতায় এনডিই বাস্তবায়নাধীন রাজধানীর শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরি কমপ্লেক্স, রমনা পুলিশ কমপ্লেক্স, আজিমপুর সরকারি কলোনির রাস্তা ও ফুটপাত নির্মাণসহ ঢাকার বাইরে চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের বিল পরিশোধে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বিল পরিশোধে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক প্রকৌশলী নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রভাবশালী এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নানামুখী চাপে পড়ে এবং এক পর্যায়ে মালিকানা হস্তান্তর হলেও সম্প্রতি তা আবার ফিরে পেয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার ফোনে কল করা তিনি ধরেননি। ডেভলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এনডিই) নির্বাহী পরিচালক মো. টিপুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে যারা পদক্ষেপ নিয়েছে তাদের বক্তব্য নিবেন। আমাদের কিছু বলার নেই।’
