আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং ট্রেড বেজড মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে বড় উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে এনবিআরের ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড’ সিস্টেমের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজ্যাকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (এফএক্সটিএমএস)-এর মধ্যে আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ডিজিটাল সংযোগের পাইলট কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
এনবিআরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগে আমদানিকৃত পণ্যের কমার্শিয়াল ইনভয়েস ব্যাংকের মাধ্যমে সত্যায়ন করে কাস্টমস অফিসে হার্ডকপি জমা দিতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের এফএক্সটিএমএস থেকে ইনভয়েসের তথ্য রিয়েল-টাইম ভিত্তিতে সরাসরি কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা সিস্টেমে যুক্ত হবে। এতে আলাদাভাবে ইনভয়েস জমা দেওয়ার প্রয়োজন থাকবে না এবং পুরো প্রক্রিয়া হবে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ।
এনবিআর বলছে, এই আন্তঃসংযোগের ফলে কমার্শিয়াল ইনভয়েস যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে পণ্যের মূল্য কম বা বেশি দেখিয়ে অর্থপাচারের সুযোগ কমে আসবে। একই সঙ্গে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে।
সিস্টেমের আন্তঃসংযোগের সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে-
কমার্শিয়াল ইনভয়েস যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে অনলাইন ও রিয়েল-টাইম ভিত্তিতে পরিচালিত হবে, ফলে কাগজপত্রের ওপর নির্ভরতা কমবে। এটি রাজস্ব ফাঁকি প্রতিহত করবে, রাজস্ব সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে। পাশাপাশি, আমদানি-রপ্তানি পণ্যের খালাস প্রক্রিয়া সহজ, দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত হবে, ট্রেডবেজড মানি লন্ডারিং হ্রাস পাবে এবং পণ্যের মূল্য নির্ধারণে একটি নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ গড়ে উঠবে। পাইলট কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে বিল অব এন্ট্রিতে কমার্শিয়াল ইনভয়েস সংযোজনকে আবশ্যিক করা হবে।
